বিমানসেবার পেশায় মহিলা কর্মীদের চাহিদা বেশি হলেও এখন অনেক পুরুষও এই পেশায় আছেন। বিমান আকাশে ওড়ার পর থকে মাটি ছোঁয়া পর্যন্ত যাত্রীদের পরিষেবা দেওয়াটাই এই পেশাদারদের কাজ। যাত্রীদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়মকানুন জানানো, আপৎকালীন ব্যবস্থাগুলো জানিয়ে রাখা, প্রয়োজনমতো খাবার ও জল দেওয়া, যাত্রীদের দেখাশোনা করা --- এ সবই কেবিন ক্রু-র কাজের মধ্যে পড়ে। বিমানসেবক হতে গেলে পেশাদারি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কিছু ব্যক্তিগত গুণাবলির প্রয়োজন। মধুরভাষী, দক্ষ ও চটজলদি সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দক্ষতা থাকা চাই। চাই সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও। কাজের সময় মেজাজ হারালে চলবে না। উড়ানে নানা রকম যাত্রী আসেন-যান। তাঁদের নানা বায়না অনেক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই প্রতি দিনের কাজে সহনশীলতা, মিষ্টি ব্যবহারের ছোঁয়া যেন থাকে। এ ছাড়া আছে স্বাস্থ্যবিধি। বিমানসেবকদের শরীর স্বাস্থ্য ভালো হতে হবে। ওজন হতে হবে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই। বিপদের সঙ্গে লড়াই করার মতো মানসিক জোর থাকা চাই এবং সব ক্ষেত্রেই পাসপোর্ট থাকা আবশ্যিক। চাই যথাযথ উচ্চারণে ইংরাজি ও অন্যান্য প্রাদেশিক ভাষাতে অনর্গল কথা বলে যাওয়ার ক্ষমতা। যাত্রীদের মন বোঝার ক্ষমতা। জার্মান, ফ্রেঞ্চ, রাশিয়ান বা চাইনিজ-এর মতো বিভিন্ন বিদেশি ভাষা জানা থাকলে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলিতে কাজ পেতে সুবিধা হয়। কেবিন ক্রু হতে চাইলে অন্তত দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন।এর পর কোনও ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে পেশাদারি প্রশিক্ষণ নিলে ভালো। থিয়োরি এবং হাতে কলমে --- দু’ভাবেই কাজ শেখানো হয়। সেখানেই এয়ারক্রাফ্ট ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জ্ঞান, টিকিট ব্যবস্থা, বৃদ্ধ ও শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নের মতো খুঁটিনাটি কাজ শেখা হয়ে যায়। বয়স মোটামুটি ১৮ থেকে ২৫-এর মধ্যে থাকলে এই পেশায় কাজের সুযোগ বেশি পাওয়া যায়। এতে উপার্জনের সুযোগ অনেক। দেশীয় এয়ারলাইনসে মোটামুটি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসে মাসে ৭৫ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা উপার্জনের সুযোগ আছে। তবে এই পেশায় বয়স একটা প্রধান বাধা। বেশি বয়স পর্যন্ত এই পেশায় কাজ করার সুযোগ থাকে না। তখন অবশ্য গ্রাউন্ড স্টাফ বা প্রশাসনিক কাজকর্মে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে। সুত্রঃ যোজনা বিশেষ সংখ্যা জানুয়ারী ২০১৫