শিক্ষকদের মধ্যে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্কুলছুট সমস্যার সমাধানের ভাবনাও যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। স্কুলছুটের সমস্যা মেটাতে শিক্ষকরা বার বার ছুটে যাচ্ছেন অভিভাবকদের কাছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোর জন্য তাঁদের কাছে দরবার করছেন, তাঁদের বোঝাচ্ছেন। বার বার মিটিং করছেন অভিভাবকদের সঙ্গে। কোথাও কাজ হচ্ছে, কোথাও বা হচ্ছে না। তবে শিশুদের স্কুলছুট রুখতে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা যে খুবই জরুরি, সেটাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষকরা। বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েরা যে বিদ্যালয়-ছুট হয়ে যাচ্ছে, সেই সমস্যাটিকেও শিক্ষকরা অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। যাই হোক, সামগ্রিক ভাবে এটা বলা যায় যে, শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও মিড ডে মিল ইত্যাদি বিভিন্ন পদক্ষেপের সহায়তায় শিশুদের নিয়মিত উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যালয়-ছুটের সংখ্যা কমানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিকেও বিদ্যালয়-ছুটের সমাধান হিসেবে শিক্ষকরা তুলে ধরেছেন। উপরের আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে মানুষের সহযোগিতায় শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের ফলে পশ্চিমবাংলায় আজ সকল শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। শিক্ষকদের উদ্যোগ ও মিড ডে মিল কর্মসূচির ফলাফল হিসেবে এই শিশুদের একটা বড় অংশ বিদ্যালয়ে উপস্থিতও হচ্ছে। কিন্তু একটা অংশের বিদ্যালয়ে অনিয়মিত আসার সমস্যা এখনও আছে। এই অনিয়মিতদেরই একটি অংশ শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়-ছুট হয়ে পড়ছে। শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সহায়িকাদের লেখা থেকেও এর থেকে আলাদা কিছু জানতে পারা যায়নি। এই অনিয়মিতদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত করানোর ব্যাপারে শিক্ষকদের একাংশ যেমন নিজস্ব উদ্যোগের উপর খুব জোর দিয়েছেন, তেমনি অনেকেই কিন্তু প্রধানত অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের উপর জোর দিয়েছেন। শিক্ষকদের এই মতামতগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ; অবশ্যই সমস্ত শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত করানোর জন্য আরও ভাবনাচিন্তা করার যে দরকার আছে, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। শিক্ষকদের লেখাগুলো সেই চিন্তাভাবনার কাজটিকে সমৃদ্ধ করবে। সূত্র : কলমচারি, প্রতীচী ইনস্টিটিউট, ফেব্রুয়ারি ২০১২