আইসিটির ব্যবহার থেকে সুবিধা গ্রহণ করার জন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত করা মানে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়াও আরও কিছু শিক্ষণকার্যে আইসিটিকে সফল ভাবে একীকরণ করার জন্য শুধুমাত্র আইসিটি প্রণালী সম্পর্কে দখল থাকাটাই যথেষ্ট পূর্বশর্ত নয়। ‘একটি মাত্র প্রশিক্ষণ’ যথেষ্ট নয় শিক্ষকদের আইসিটি-এর ওপর প্রচুর এবং ধারাবাহিক জ্ঞান দরকার যাতে তাঁরা এর সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেন এবং সঠিক জিনিসটি বেছে নিতে পারেন। অবশ্য সঠিক শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নয়নকে আইসিটি প্রণালী সম্পর্কিত জ্ঞানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। খুব কম শিক্ষকেরই শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আইসিটি ব্যবহারে বিশদ ‘দক্ষতা’ আছে ওইসিডি ভুক্ত দেশগুলিতে এমনকী খুব উন্নতমানের বিদ্যালয়গুলিতেও আইসিটির ব্যাপক ভাণ্ডার ও পদ্ধতিগুলি সম্পর্কে খুব কম সংখ্যক শিক্ষকেরই সম্যক জ্ঞান আছে। ওইসিডি ভুক্ত দেশগুলিতে ‘কম্পিউটার সাক্ষরতা’র প্রসার ঘটাতে আইসিটির ব্যবহারকে, শিক্ষা দেওয়া ও শিক্ষা নেওয়ার কাজে আইসিটির ব্যবহার অপেক্ষা কম গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় ওইসিডি-এর অভিজ্ঞতায় প্রাত্যহিক শিক্ষাদান ও লেখাপড়ার কাজে প্রযুক্তির ব্যবহারকে “কম্পিউটার ক্লাসে” নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। যদিও দেখা যায় শিক্ষাদান ও শিক্ষা গ্রহণের কাজে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ভূমিকা আছে, তবে এটি নিজে যতটা না বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে অন্যান্য শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণ পদ্ধতিকে গড়ে তোলার কাজে এর গুরুত্ব বেশি। যে সব বিদ্যালয় থেকে অত্যধিক মাত্রার আইসিটি বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষার্থীর খবর পাওয়া যায়, সেগুলিতে কিন্তু বাড়াবাড়ি রকমের কম্পিউটার পাঠক্রমের প্রয়োজনীয়তা নেই, বরং তারা শিক্ষকের পেশাগত উন্নতির ক্ষেত্রে এবং শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণ কার্যক্রমে ধারাবাহিক ভাবে আইসিটি ব্যবহার করে চলেছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাত্ররা তাদের শিক্ষকদের থেকে অনেক বেশি কেতাদুরস্ত ওইসিডি দেশগুলিতে ছাত্রদের জ্ঞান এবং আইসিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জ্ঞান ও পারদর্শিতার মধ্যে সংযোগের বড়সড় অভাব রয়েছে বলে মনে হয়। এটা এই ইঙ্গিতই দেয় যে, শিক্ষকের অপটুতা এবং দক্ষতার অভাব ছাত্রদের শিক্ষার কাজে আইসিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রায়শই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।