রাজ্য ও দেশের যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানেই কেমিস্ট্রি রয়েছে, সেখানে বিএসসি পাশ করার পর প্রথাগত ভাবে যথাক্রমে এমএসসি এবং পিএইচডি করার সুযোগ থাকেই। আইআইটিগুলোতেও বিএসসি-র পর দু’ বছরের এমএসসি করা যায়, তবে তার জন্য জ্যাম দিতে হয়। আইআইএসসি বেঙ্গালুরু এবং প্রতিটি আইআইএসইআর ও আইআইটি-তে কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। তা ছাড়া আইআইএসসি বেঙ্গালুরু এবং প্রতিটি আইআইএসইআর-এ পিএইচডি-র পাশাপাশি এই বিষয়ে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি কোর্স রয়েছে (এমএসসি-পিএইচডি ডুয়াল ডিগ্রি)। চাইলে এনআইটিগুলো থেকেও পিএইচডি করতে পার। শিবপুরের আইআইইএসটি থেকেও এমএসসি এবং পিএইডি করতে পার। ইন্ডিয়ান স্কুল অব মাইন্স থেকে কেমিস্ট্রিতে এমএসসি, অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রিতে এমফিল করতে পারে পড়ুয়ারা। এখানে পিএইচডি করারও সুযোগ আছে। পিএইচডি করতে পারে রাজীব গান্ধী ইনস্টিটিউট অব পেট্রোলিয়ম টেকনোলজি-তেও। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের অধীনে কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে কেমিস্ট্রি ও তার আনুষঙ্গিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করা যায়। যেমন, ডিপার্টমেন্ট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স, এস এন বোস ন্যাশনাল সেন্টার অব বেসিক সায়েন্সেস, বোস ইনস্টিটিউট ইত্যাদি। আইএসিএস-এ যেমন পোস্ট-বিএসসি ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হয়। এখানে পিএইচডি-ও করা যায়। জওহরলাল নেহরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্টিফিক রিসার্চ-এ কেমিক্যাল সায়েন্সেস নিয়ে উচ্চশিক্ষা করতে পারে কেমিস্ট্রির পড়ুয়ারা। ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাটমিক এনার্জির অধীনে টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ, সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে কেমিস্ট্রির বিভিন্ন শাখায় গবেষণা করা যায়। এ ছাড়া, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল বায়োলজি, সেন্ট্রাল গ্লাস অ্যান্ড সেরামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল কেমিক্যাল ল্যাবরেটরির মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে উচ্চতর শিক্ষা বা গবেষণার খুব ভালো সুযোগ রয়েছে। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট-এর ক্ষেত্রে দেশের প্রথম সারির জাতীয় প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-এর অধীনে আছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। পিএইচডি-র ফেলোশিপ পেতে নেট ও স্লেট-এ উত্তীর্ণ হতে হয় বা গেট-এ ভালো ফল করতে হয়। মূলত ফিজিক্যাল, অর্গানিক, ইনঅর্গানিক এবং মেটেরিয়ালস্ কেমিস্ট্রির বিভিন্ন শাখা বা আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে এমএসসি স্তরে স্পেশালাইজেশন বা পরে গবেষণা করে ছেলেমেয়েরা। কেউ যদি ঠিক করে নেয় স্নাতকোত্তরের পরে গবেষণা করবে, তা হলে এমন প্রতিষ্ঠান থেকে এমএসসি কর, যেখানে পাঠক্রমের বাইরে কিছু গবেষণা করারও সুযোগ থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গবেষণাগারে পড়ুয়াদের সামার প্রোজেক্ট করার জন্য বেশ ভালো সুযোগ দেয়। বিএসসি বা এমএসসি-র মাঝে এই ধরনের সামার প্রোজেক্ট করার জন্য ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স, জেএনসিএএসআর বা আইআইএসইআরগুলোর ফেলোশিপেরও ব্যাবস্থা আছে। এই ধরনের প্রোজেক্টগুলো ভালো এক্সপোজার দেয়। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, প্রস্তুতি, ৩ মার্চ ২০১৫