বিখ্যাত লেখক শ্রীযাদবচন্দ্র চক্রবর্তীর ১৯৫১ সালে লেখা ‘প্রবেশিকা বীজগণিত’ এর পৃষ্ঠা ৮৯-এ ৯১ অনুচ্ছেদে লেখা আছে ‘যদি কোনও সমীকরণ এ রূপ হয় যে উহার অজ্ঞাত রাশিটি যে কোনও মানবিশিষ্ট হইলেই সমীকরণের উভয় পক্ষ সর্বতো ভাবে সমান হয়, তাহা হইলে ওই সমীকরণকে অভেদ সমীকরণ (Identical equation) বা সংক্ষেপে অভেদ (identity) বলে। যথা— x+2=2x+2-x, 5x+6=x+9+4x-3 এবং (x-1)2 = x2-2x+1, ইহারা প্রত্যেকেই এক একটি অভেদ সমীকরণ। যে স্থলে অজ্ঞাত রাশিটি কোনও নির্দিষ্ট মানবিশিষ্ট হইলে সমীকরণের উভয় পক্ষের সমতা সাধিত হয় সে স্থলে ঐ সমীকরণকে সাপেক্ষ (conditional) সমীকরণ অথবা সংক্ষেপে শুধু সমীকরণ কহে। 2x = x+3, এই সমীকরণ x=3 হইলেই কেবলমাত্র উভয় পক্ষের সমতা সাধিত হয়। সুতরাং ইহা খাঁটি সমীকরণ (equation proper)। ‘পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ’ ও ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা’ লিখিত যথাক্রমে ‘গণিত (সপ্তম শ্রেণি)’ ও ‘মাধ্যমিক বীজগণিত’ বই দুটোতে দ্বিতীয় দলের মতের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ‘মাধ্যমিক বীজগণিত’ বইটার (পৃষ্ঠা ৭৮) একটা উদ্ধৃতি নীচে দেওয়া হল— ‘‘সমীকরণ ও অভেদের পার্থক্য : c2 + d (2c+d) = c (c+2d) + d2 একটি অভেদ। উভয় পক্ষের রাশিমালা দেখতে ভিন্ন হলেও কার্যত এরা একই। c ও d–এর যে কোনও মানের জন্য উভয় পক্ষের মান একই হবে। সমীকরণে অজ্ঞাত রাশির নির্দিষ্ট একটি (বা একাধিক) মানের জন্য উভয় পক্ষ সমান হয়।’’ দ্বিতীয় দলের মত সমর্থিত আরও একটা উদাহরণ— আসাম মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদ-এর ভূমিকা লিখিত, দ্য আসাম স্টেট টেক্সটবুক প্রোডাকশন অ্যান্ড পাবলিকেশন করপোরেশন লিমিটেড, গুয়াহাটি কর্তৃক প্রকাশিত ‘সাধারণ গণিত’-এর ১৭০ পৃষ্ঠায় সমীকরণ ও অভেদ সংক্রান্ত দু’টি সংজ্ঞা ‘যে সমতা উক্তি অজ্ঞাত রাশির যে কোনও বাস্তব মানের জন্য সত্য তাহাকে অভেদ বলে।’ ‘যে সমতা উক্তি অজ্ঞাত রাশির নির্দিষ্ট মানের জন্য সত্য তাহাকে সমীকরণ বলে।’ সূত্র : আধুনিক গণিত অন্বেষা, গণিতভীতি সংখ্যা, ২০১২।