প্রতীকের সাহায্যে বিমূর্ত গণিত উপস্থাপন করা হয়। কেউ চকের গুঁড়ো দিয়ে প্রতীক তৈরি করেন, কেউ কালি দিয়ে, কেউ বা প্রতীক তৈরি করেন স্ট্র দিয়ে। স্ট্র দিয়ে ত্রিভূজ তৈরি নিয়ে এক বার একটা প্রশ্ন উঠেছিল। কলকাতার জগদীশ বোস ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ (জেবিএনএসটিএস)-এর আমন্ত্রণে তাদের সেমিনার হলে চলছিল ধরাছোঁয়া যায় এমন কিছু প্রতীকের সাহায্যে গণিতে আমার কিছু উপস্থাপনা। শ্রোতা ছিলেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় কুড়ি-পঁচিশ জন গণিতশিক্ষক এবং আমার উপস্থাপনা শুনছিলেন কয়েক জন গণিত-অধ্যাপক। আমার হাতে স্ট্র দিয়ে তৈরি ত্রিভুজের প্রতীকটা লক্ষ করে এক জন অধ্যাপক বললেন --‘ওটা ত্রিভুজ কী করে হল ? স্ট্র’র তো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা আছে। আমার পিছনে ছিল একটা হোয়াইট বোর্ড। মার্কার দিয়ে ওই বোর্ডে একটা ত্রিভুজের চিত্র এঁকে পালটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম -- আপনি কি বোর্ডের এই চিত্রকে ত্রিভুজ বলবেন ? উত্তর পেয়েছিলাম -- হ্যাঁ। এর পর আমার জবাবটা ছিল একই রকম -- আমার হাতের ত্রিভুজাকার এই স্ট্র কিংবা বোর্ডের ওই চিত্র -- কোনওটাই ত্রিভুজ নয়। এ দুটোই ত্রিভুজের প্রতীক মাত্র। কারণ, এদের বাহুগুলির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা আছে। প্যান্ডেলে রাখা দুর্গার প্রতীক নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা হয়। বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনও প্যান্ডেলের দুর্গা (প্রতীক)-কে ফার্স্ট, কোনও প্যান্ডেলের দুর্গা (প্রতীক)-কে সেকেন্ড করা হয়। দুর্গা তো একটাই, তার আবার ফার্স্ট, সেকেন্ড হয় কী করে ? আসলে, প্রকৃত সেই বিমূর্ত দুর্গাকে স্মরণের জন্য প্রতীক তৈরিতে যে শিল্পচর্চা হয়, সেই শিল্পচর্চার প্রতিযোগিতা ও সব। মাননীয় অধ্যাপক হোয়াইট বোর্ডের ‘প্যান্ডেলে’-এ আমার আঁকা ত্রিভুজটা ফার্স্ট করতে চাইলে, আমার হাতের ‘প্যান্ডেল’-এ স্ট্র দিয়ে তৈরি ত্রিভুজটা তো নিশ্চয় সেকেন্ড করবেন। আমার জবাবের পরে সেমিনার হলে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। নিস্তব্ধতা কেন ? আসলে তখন আমরা সবাই বিমূর্ত গণিতের চিন্তনে, অন্তরের দৃষ্টিতে তার রূপ দর্শনে বিভোর। সূত্র : আধুনিক গণিত অন্বেষা, গণিতভীতি সংখ্যা, ২০১২।