গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার স্রোত দিয়ে তৈরি পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপের অংশ হল সুন্দরবন। পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার স্রোতের একেবারে শেষ প্রান্তে সুন্দরবন অবস্থিত। অসংখ্যা খাল, বিল, ছোট নদী এই গোটা অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে। এটি পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় ও লোভনীয় স্থান, যার বহু অঞ্চলেই এখনও মানুষের পায়ের চিহ্ন পড়েনি। পৃথিবীর মধ্যে ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদের সব চেয়ে বড় আবাসস্থলও এই সুন্দরবন। সুন্দরী গাছে ভরা এই জঙ্গলের বৈশিষ্ট্যকে মাথায় রেখেই সুন্দরবনের নামকরণ করা হয়েছে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে জায়গা করে নিয়েছে সুন্দরবন। শুধুমাত্র ভারতেই এটি প্রায় ৪২৬৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প ও জাতীয় উদ্যান। যদিও সুন্দবনের প্রায় ৬০ শতাংশ অঞ্চলই বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত। ১৯০৩ সালে সুন্দরবনে প্রায় ৩৩৪ রকমের উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, কেওড়া এখানকার প্রধান উদ্ভিদ। অন্য দিকে ২০১১ সালের বাঘ সুমারি অনুসারে সুন্দরবনে ২৭০টি বাঘের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। বাঘের আক্রমণে সুন্দবনের আশেপাশের গ্রামগুলিতে মানুষ ও জন্তু জানোয়ারের মৃত্যু একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। বাঘের আক্রমণে এই অঞ্চলে প্রতি বছর ১০০-২৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। বাঘ ছাড়াও সুন্দরবনে ৪২টি প্রজাতির স্তন্যপায়ী আছে বলে জানা যায়। এখানে প্রায় ১৫০ রকমের মাছ ও ২৭০ রকমের পাখির দেখা মেলে। জলে কুমির, কামট, কচ্ছপ। বাঘ ছাড়াও ডলফিনও সুন্দরবনে সংরক্ষণের আওতায় থাকা একটি প্রাণী। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ও নানা ধরনের পশুপাখি রক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছে ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ। সুন্দরবন পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। সুন্দরবন বেড়ানোকে দু’ ভাগে ভাগ করা যায় – এক দিকে সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের ভগবতপুর, লোথিয়ান দ্বীপ, বনি ক্যাম্প, কলস ক্যাম্প। অন্য দিকে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের সজনেখালি, সুধন্যখালি, দোবাঁকি থেকে একেবারে বুড়ির ডাবরি পর্যন্ত। সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিংয়ের দূরত্ব কলকাতা থেকে মাত্র ৪০ কিমি। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের দিকে যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে ক্যানিং পৌঁছে বা কলকাতার বাবুঘাট থেকে বাসে বাসন্তী-সোনাখালি পৌঁছে, সেখান থেকে লঞ্চে উঠতে হবে। গাড়িতে গেলে গোসাবার উল্টো দিকে গদখালি পর্যন্ত চলে যাওয়া যায়। তার পর লঞ্চ। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ বেড়ানোর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লঞ্চে রাত্রিবাস। তবে সজনেখালিতে থাকার নানান ব্যাবস্থাও আছে। জেটি ঘাটের কাছেই পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের সজনেখালি ট্যুরিস্ট লজ।