এত যেখানে দেখার জায়গা, সেখানে ঘুরতে হলে, কোথা থেকে শুরু করা দরকার, পর্যটকদের মনে সে প্রশ্ন জাগবেই। লালবাগ তথা মুর্শিদাবাদ ঘুরতে হলে রেল স্টেশন মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর কোর্ট থেকেই ঘোরা শুরু করা উচিত। কলকাতা, দুর্গাপুর, মালদহ, শিলিগুড়ি, শান্তিনিকেতন প্রভৃতি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাসও যাচ্ছে মুর্শিদাবাদ। অটো বা রিকশায় মুর্শিদাবাদ শহরের বিভিন্ন দ্রষ্টব্যগুলি দেখে নেওয়া যায়। বহরমপুর রেলস্টেশনের কাছেই পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ট্যুরিস্ট লজ। বেনফিশের হোটেল সিরাজবাগ। হাজারদুয়ারির কাছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ইয়ুথ হোস্টেল, পি ডব্লু ডি রেস্ট হাউস ও মুর্শিদাবাদের পৌর অতিথি নিবাস। এ ছাড়া শহরজুড়ে রয়েছে নানান মান ও দামের অনেক হোটেল। মুর্শিদাবাদের আম আর মিষ্টির খ্যাতি রয়েছে। খাগড়ার ছানাবড়া, আজিমগঞ্জের বরফি সন্দেশ, রঘুনাথগঞ্জের রসকদম্ব, ধুলিয়ানের খোয়া চমচম, কমলাভোগ, ক্ষীরমোহন ইত্যাদির স্বাদ নিতে হবে। মুর্শিদাবাদের সিল্ক বিখ্যাত। সরকারি সিল্ক রিসার্চ সেন্টারটিও ঘুরতে হবে। খাগড়ার খ্যাতি কাঁসার বাসনের জন্য। উৎসব মুর্শিদাবাদ-বহরমপুরের খোজা খিজির বা বেরা উৎসব এক দ্রষ্টব্য বস্তু। এই উৎসবের প্রবর্তক নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ স্বয়ং। ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করার পর এই উৎসবের আয়োজন করেন। উৎসবের বিষয়বস্তু হল গঙ্গাবক্ষে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করে কলাগাছের বেরা বা নৌকা তৈরি করে ভাসানো হাজার আলোর রোশনাই। ময়ূরপঙ্খীর আদলে তৈরি নৌকা, তবে ময়ূর নয়, সামনে মকর আর পিছনের মুখ হাতির মতো। সোদা ভাসানো উৎসব মুসলমানদের উৎসব বলে চিহ্নিত হলেও হিন্দু মেয়েরাও এতে অংশগ্রহণ করে থাকে। কলার পেটো দিয়ে নৌকা বানিয়ে ফুল, সিন্নি বা বাতাসা দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে গঙ্গায় বা পুকুরে ভাদ্রমাসে সোদা ভাসানো হয়। খেতুর পঞ্চমী মহোৎসব বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের উৎসব এবং প্রবর্তন করেছিলেন শ্রীচৈতন্যভক্ত নরোত্তম দাস। তিনি খেতুর গ্রামে বৈষ্ণবদের প্রথম মহাসম্মেলন আহ্বান করেছিলেন। দিনটি ছিল লক্ষ্মী পূর্ণিমার পরবর্তী পঞ্চমী তিথি। সেই দিনটিকে উপলক্ষ্য করে প্রতি বছর পাঁচদিনব্যাপী উৎসব পালিত হয়ে আসছে। সুত্রঃ পোর্টাল কন্টেন্ট টিম