এখানে ঘুরতে গেলে ঘাঁটি গাড়তেই হবে বহরমপুরে। অটো করে লালবাগে পৌঁছে রিকশা বা টাঙ্গা নিয়ে নিলে খুব সহজেই দেখে নিতে পারবে বাংলার এক সময়ের রাজধানীর জমকালো চেহারা। লিস্টে প্রথমেই আসবে নবাব হুমায়ুন জা-র প্রাসাদ হাজারদুয়ারি। বিরাট এই স্থাপত্যটি এখন একটি মিউজ়িয়াম। প্রাচীন মুর্শিদাবাদের স্মৃতি নিয়ে অপরূপ গথিকশৈলীর এই প্রাসাদ এখন মিউজিয়াম। আক্ষরিক অর্থেই এ এক ঐতিহাসিক জাদুঘর। নিচের তলায় রয়েছে তৎকালীন নবাবদের ব্যবহৃত প্রায় ২৭০০ টি অস্ত্রশস্ত্র। যার মধ্যে আলিবর্দি ও সিরাজের তরবারি এমনকি যে ছুরিকা দিয়ে মহম্মদি বেগ সিরাজকে খুন করেছিলেন তা পর্যন্ত রক্ষিত আছে এই সংগ্রহশালায়। এই সুরম্য বিশাল রাজপ্রাসাদের দ্বিতলে দেখা যায় রুপোর সিংহাসন যেটি ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী মহারানী ভিক্টোরিয়ার দেওয়া উপহার। একই চৌহদ্দিতে পাবে ইমামবাড়া, যেখানে তুমি ঢুকতে না পারলেও এর বিশালত্ব তোমাকে মুগ্ধ করবে। এ ছাড়াও দেখতে পারো সন্ধেবেলার কাটরা মসজিদের শান্ত রূপ। পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের তিনটি বিধ্বস্ত; চারকোণে চারটি মিনারের উচ্চতা হবে আনুমানিক আশি ফুট, তন্মধ্যে দু’টি মিনার কালের কবলে পড়েছে। মসজিদটিতে একসঙ্গে সাতশো জন বসে নামাজ পড়তে পারে। ভাবতেও বেশ অবাক লাগে যে মসজিদ চত্বরেই রয়েছে একটি শিব মন্দির। কাটরা মসজিদের পেছনেই রয়েছে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র সমাধি। অবশ্যই নৌকো করে ভাগীরথী পেরিয়ে এক বার খোশবাগ ঘুরে এসো। খোশবাগ, রোশনীবাগ শান্তস্নিগ্ধ পরিবেশে বিরাজ করছে। খোশবাগ হল আনন্দবাগিচা-সেখানে রয়েছে আলিবর্দি খাঁ, সিরাজদ্দৌলা, লুৎফাউন্নিসা সহ নবাব পরিবারের বিশিষ্টজনের সমাধিক্ষেত্র। রোশনিবাগের সুশোভিত উদ্যানে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন নবাব সিরাজদ্দৌলা এবং তাঁর পরিজনেরা। এই উদ্যানের মাঝে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে আলিবর্দি একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এ ছাড়াও দেখে নাও হাজারদুয়ারির অদূরে কাঠগোলায় দুগার পরিবার কর্তৃক তৈরি নন্দন কাননে একটি চারতলা বিশিষ্ট রাজপ্রাসাদের কাছেই অপূর্ব কারুকার্যমন্ডিত আদিনাথ মন্দির। বাদ দিও না হাজারদুয়ারির মিনি সংস্করণ নসীপুর রাজবাড়ি। কাছেই জাফরাগঞ্জ বা নিমকহারাম দেউড়ি। এর বিপরীতে জাফরাগঞ্জ সমাধিক্ষেত্র, এখানে শায়িত মীরজাফর। অদূরে মুর্শিদকুলির কন্যা আজিমউন্নিশা তথা কলিজাখাকি বেগমের সমাধি। এ ছাড়াও লালবাগে আছে কাটরা মসজিদ, কদমশরীফ, তোপখানায় জাহানকোষা কামান, মোতিঝিল ইত্যাদি। কলকাতা থেকে ট্রেনে বহরমপুর গিয়ে ১৪ কিমি দূরে বাসে যাওয়া যায় লালবাগ। কিংবা ট্রেনে মুর্শিদাবাদ গিয়ে সেখান থেকে রিকশায় যাওয়া যায় লালবাগ। টাঙায় বা রিকশায় ঘুরে নেওয়া যায় লালবাগ। থাকার জন্য বহরমপুর-লালবাগে সরকারি ও বেসরকারি অনেক লজ-হোটেল আছে। সুত্রঃ পোর্টাল কন্টেন্ট টিম