সান্দাকফু শৃঙ্গটি ৩৬৩৬ মিটার (১১৯৪১ ফুট উঁচু)। এটি পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম শৃঙ্গ। দার্জিলিঙের সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের ধারে পশ্চিমবঙ্গ-নেপাল সীমান্তের এই শৃঙ্গ সিঙ্গালিলা পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু বিন্দু। সান্দাকফু শৃঙ্গে একটি ছোট গ্রাম আছে, সেখানে কয়েকটি হস্টেলও রয়েছে। এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে এবং মাকালু -- পৃথিবীর পাঁচটি সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গের চারটিই সান্দাকফু থেকে দেখা যায়। সান্দাকফু গাড়ি করেও যাওয়া যায়, ট্রেক করেও। যাত্রা শুরু হয় মানেভঞ্জন থেকে, দার্জিলিং থেকে ২৮ কিমি। মানেভঞ্জন থেকেই প্রয়োজনে নিতে হয় পোর্টার ও গাইড। মানেভঞ্জন থেকে কেউ চাইলে ১৯৫০ সালে তৈরি ল্যান্ড রোভারে চড়ে সান্দাকফু ও ফালুট অবধি যেতে পারেন। যদিও খাড়াই পাহাড়ি পথ হওয়ার করণে এই যাত্রা খুব একটা আরামদায়ক নয়। আদতে সান্দাকফুর পরিচিতি ট্রেকিংয়ের স্বর্গরাজ্য হিসাবে। যাঁরা সবে ট্রেকিং শুরু করেছেন তাঁদের কাছে পায়ে হাঁটার আদর্শ গন্তব্য সান্দাকফু-ফালুট। মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু-ফালুট ট্রেকিং-যাত্রাকে ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা যায় --- (১) মানেভঞ্জন (৭০৫৩ ফুট) থেকে মেঘমা (৮৫৩০ ফুট) –- ৪ ঘণ্টার ট্রেকিং। পথ গিয়েছে ছবির মতো গ্রাম চিত্রে হয়ে। সময় ও পরিস্থিতি বুঝে অনেক সময়ে চিত্রে থেকেও ট্রেক শুরু করা যায়। (২) মেঘমা থেকে গৈরিবাস (৮৫৯৯ ফুট) –ট্রেকিংয়ের এই পথ গিয়েছে টংলু (১০০৭২ ফুট) ও টুমলিং (৯৫১৪ ফুট) হয়ে। অনেকে শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি গাড়িতে ধোতরে হয়ে টংলু বা টুমলিং এসে সেখান থেকে ট্রেকিং শুরু করেন। সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের সীমানাটি এই পথের ধারেই। টুমলিং-এ জাতীয় উদ্যানের একটি চেকপোস্ট আছে। (৩) গৈরিবাস থেকে সান্দাকফু – ৪ ঘণ্টার টানা খাড়াই পথ ধরে পৌঁছতে হয় সান্দাকফুতে। পথে পড়ে কালা পোখরি গ্রাম। (৪) সান্দাকফু-ফালুট (১১৮১১ ফুট) – ট্রেকিং পথে সব চেয়ে আকর্ষণীয় অংশ এটি। ২১ কিমি পথে সব সময়ের সঙ্গী এভারেস্ট আর কাঞ্চনজঙ্ঘা। এই পথে অবশ্য জল-খাবার পাওয়া যায় না। নিজেদের নিয়ে যেতে হয়। ইদানীং সবরকুম গ্রামে কিছু ব্যবস্থা হয়েছে। তবে তা অনিশ্চিত। ফেরার সময় পুরনো পথে না ফিরে টানা নেমে চলে আসা যায় শ্রীখোলা নদীর ধারে শ্রীখোলায়। সেখান থেকে রিম্বিক। তার পর গাড়িতে দার্জিলিং। সুত্রঃ পোর্টাল কনটেন্ট টীম