জন্ম : ১৬ মাঘ, ১৩২৩ বঙ্গাব্দ (৩০ জানুয়ারি, ১৯১৬),অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে। ভঙ্গা হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই-এ। বি-এ পাশ করেন বঙ্গবাসী কলেজ থেকে। লেখালেখির সূচনা বাল্যকালে। প্রথম মুদ্রিত কবিতা 'মূক', প্রথম মুদ্রিত গল্প 'মৃত্যু ও জীবন'। দুটোই 'দেশ'-পত্রিকায়, ১৯৩৬ সালে। বিষ্ণুপদ ভট্টাচার্য ও নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে একত্রে প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'জোনাকি' (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ)। প্রথম গল্প-সংগ্রহ 'অসমতল'(১৩৫২ বঙ্গাব্দ)। প্রথম উপন্যাস 'হরিবংশ', গ্রন্থাকারের নাম 'দীপপুঞ্জ'(১৩৫৩ বঙ্গাব্দ)। গল্পগ্রন্থ প্রায় পঞ্চাশটি। উপন্যাস, বিশেষত, 'দীপপুঞ্জ', 'চেনামহল', 'তিন দিন তিন রাত্রি' ও 'সূর্যসাক্ষী', দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশকাল থেকেই দারুন ভাবে সমাদৃত। চলচ্চিত্রে রূপায়িত বহু রচনার কয়েকটি, সত্যজিৎ রায়ের 'মহানগর', অগ্রগামীর 'হেডমাস্টার', 'বিলম্বিতলয়'; রাজেন তরফদারের 'পালঙ্ক'। 'রস' গল্পটির হিন্দি চলচ্চিত্রের নাম 'সওদাগর'। ১৯৬২ সালে তিনি আনন্দ পুরস্কার পান। প্রয়াণ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫ সালে। বাংলা ছোটগল্পপরিমণ্ডলে নরেন্দ্রনাথ মিত্র (১৯১৬—১৯৭৫) অনেকটাই অনালোচিত-অনালোকিত। অথচ তাঁর গল্পের বিষয় ও কাঠামোগত বিন্যাস বাংলা ছোটগল্প তো বটে, বিশ্ব ছোটগল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী। পাঠককে নিমগ্নচিত্তে গল্পপাঠে মুগ্ধতার সাথে ধরে রাখার এক অসামান্য শিল্পশক্তির আধার তাঁর গল্পমালা। শুধু সংখ্যা বিচারে চার শতাধিক গল্পের শিল্পী-স্রষ্টা মাত্র তিনি নন; তিনি প্রচুর ভালো গল্প লিখেছেন। বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাসে তাঁকে নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরের আলোচনা ছাড়া আর কোথাও তিনি উল্লেখযোগ্য ভাবে উপস্থাপিত নন। কিংবদন্তিতুল্য নরেন্দ্রনাথ মিত্রের গল্প নিয়ে স্বতন্ত্র পর্যায়ের বিস্তরায়তন আলোচনা হতে পারে। ৫১টি গল্পগ্রন্থ এবং ৩৮টি উপন্যাসের সার্থক কারিগর তিনি। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন সহ অনেকেই তাঁর রচনাকে চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছেন। তাঁর অনেক গল্পই হিন্দি, মারাঠি, রুশ, ইংরেজি, ইতালীয় ভাষায় অনুদিত হয়েছে। কর্মজীবনে অনেক ঘাত-অভিঘাত শেষে তিনি আনন্দ বাজার পত্রিকায় যোগদান করেন এবং আমৃত্যু সেখানে কর্মরত ছিলেন। ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলার সদরদি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। দেশ বিভাগের পর তিনি কলকাতায় স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। আর তাঁর বাংলাদেশে আসা হয়নি। বাংলা সাহিত্যে মানিক, বিভূতি, তারাশঙ্কর — এই ত্রি বন্দ্যোপাধ্যায় সহ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র কিংবা সুবোধ ঘোষ যতটা আলোচিত, তার চেয়ে নরেন্দ্র নাথ মিত্র বেশি বৈ কম আলোচনার দাবি রাখেন না।