বাসে, থিয়েটার হলে, স্কুলের জমায়েতে সর্বত্র দেখা যায় মানুষ গান গাইছে কিংবা শুনছে। সত্যিই গান গাওয়া বা শোনাটা আমাদের অনের কাছেই প্রিয় অবসর যাপন। তো কী ভাবে আমরা এই গানগুলো শুনি? কী ভাবে লাউড স্পিকার থেকে গান বেরিয়ে আসে (অনেক সময় যাকে আমরা শুধুই স্পিকার বলে থাকি)? স্পিকার কী ভাবে কাজ করে? ভালো মানের স্পিকার কাকে বলে? আমাদের সকলের কানে পর্দা আছে। যখন পর্দা কম্পিত হয়, আমাদের মস্তিষ্ক তাকে শব্দ বলে চিহ্নিত করে। কানের পর্দা কেন কাঁপে? যখন কানের পর্দার পাশের বাতাসের চাপ বাড়ে, তখন সেটা পর্দাকে ভেতরের দিকে ঠেলে দেয় এবং যখন সেটা কমে তখন পর্দা বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে। বাতাসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শব্দ এই সংকুচিত (উচ্চ চাপ) ও প্রসারিত (কম চাপ) বাতাসের তরঙ্গ তৈরি করে। তাই যখন এই তরঙ্গগুলি আমাদের কানে পৌঁছয় তখন আমাদের কানের পর্দাও একই ফ্রিকোয়েন্সিতে ভিতরে ও বাইরে ঢুকতে বেরোতে থাকে, একেই আমাদের মস্তিষ্ক শব্দ বলে চিহ্নিত করে। স্পিকারও শব্দ তৈরির ক্ষেত্রে একই নীতি ব্যবহার করে। তফাৎ হল, প্রক্রিয়াটা ঠিক বিপরীত। স্পিকারের মধ্যে পর্দার মতো একটি জিনিস কম্পিত হয়ে ভেতরে ও বাইরে ঢুকতে বেরোতে থাকে এবং নিকটবর্তী বাতাসকে ধাক্কা দেয়। বাতাসের স্পন্দিত গতি তখন শব্দের আকারে বাইরে বেরিয়ে আসে। আমাদের কথা বলার নীতি আর এটা একই। আমাদের ভোকাল কর্ড কেঁপে শব্দের জন্ম দেয়। আমরা শব্দ তৈরির যে প্রক্রিয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত, স্পিকার শব্দটি তার থেকে কিছু বেশি বোঝায়।