পাথফাইন্ডার নামে মঙ্গল অভিযানটি নাসা যে ক’টি মহাকাশযানকে মঙ্গলে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে, তার একটি। এগুলি থেকেই আমরা মঙ্গল সংক্রান্ত তত্ত্বগুলিকে বিচার করতে পারব বা বাতিল করতে পারব। পাথফাইন্ডার মহাকাশযানটি ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে রওনা দেয় এবং ১৯৯৭ সালের জুলাইতে মঙ্গলে পৌঁছয়। এটা আগে থেকে ঠিক করে দেওয়া জায়গাতেই নামে। আগের ভাইকিং-এর সঙ্গে এর তফাৎ হল, এতে সোজর্নার নামে একটি চলমান রোবট ছিল। সোজর্নার ৬টি চাকা যুক্ত পায়ের পাতার আকারের একটি চলমান প্ল্যাটফর্ম। এটা দিনে সৌর শক্তিতে চলে এবং রাতে ব্যাটারিতে। এটা প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ১ সেমি পথ পেরোয়। এতে ক্যামেরা এবং অন্যান্য সেন্সর থাকে। মহাকাশযানের চার দিকে ঘুরে এটি তথ্য সংগ্রহ করে। সোজর্নারের পাঠানো ছবির ভিত্তিতে পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা এর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন। এই ছবিগুলি দেখে রোবটটিকে ওই এলাকার আগ্রহজনক জায়গাগুলিতে পাঠানো হয় এবং যাতে সেটি কোনও বাধার মুখোমুখি না হয়, তা দেখা হয়। রোবটটি এই অর্থে বুদ্ধমান কারণ এটি পৃথিবীর নির্দেশ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কখন কোনও বাধাকে এড়াতে হবে এবং কখন পেরোতে হবে।এটা এমন ভাবে তৈরি যাতে যখন কোনও ভুল হয়, তখন এটা প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ভিত্তিতে কাজ করে। পাথফাইন্ডার অভিযান, যে অঞ্চলে যানটি নামে সেই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির বেশ কিছু ছবি পাঠায় (জেএম, জুল-আগ ১৯৯৭)। সেই গ্রহের পাথর ও বায়ুমণ্ডল সম্পর্কেও এই যান কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জোগাড় করে। এগুলি যাচাই করতে অনেক বছর লাগবে, তার পরই বোঝা যাবে, মঙ্গল ও পৃথিবীর অতীত ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে আমাদের ধারণার সঙ্গে এই তথ্য সঙ্গতিপূর্ণ না তার বিপরীত। মঙ্গলের নালা। মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়রের তোলা। মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়র নামে নাসার পরবর্তী মহাকাশযানটি মঙ্গলে পৌঁছে গিয়েছে। পাথফাইন্ডারের মতো এটি মঙ্গলের মাটিতে নামবে না। তার বদলে এটি মঙ্গলের মাটির প্রায় ২৫০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে এটি মঙ্গলকে প্রদক্ষিণ করবে এবং মঙ্গলের মাটি ও বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে তথ্য পাঠাবে। এটা হবে মেরু প্রদক্ষিণ-অর্থাৎ এর কক্ষপথ দু’টি মেরুকেই ঘিরে থাকবে। বৃত্তাকার পথের ফলে এটি মঙ্গলের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়বে (এটি বিষুবরেখার কক্ষপথ ধরে উড়লে কী হত?)। মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়র পাঠানো ছবি থেকে ভবিষ্যতে মঙ্গলে যান পাঠানো হলে, তা কোথায় নামানো হবে, তা ঠিক করা যাবে। নাসার ধারণা অনুযায়ী ২০২৫ সাল নাগাদ হয়তো মানুষ মঙ্গলের মাটিতে পা রাখতে পারবে। সূত্র: কে নারায়ণ কুমার এসপিআইসি ম্যাথেমেটিক্যাল ইন্সটিটিউট, চেন্নাই