তোমরা ফোন রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গে বল "হ্যালো", কিন্তু জানো কি এই "হ্যালো"টার প্রচলন কী ভাবে হয়েছিল ? "হ্যালো" যে একটা মেয়ের নাম এটাও কি জানা আছে তোমাদের ? কি অবাক হচ্ছো ? ভাবছ কে ওই মেয়েটা ? মেয়েটা হচ্ছে মার্গারেট হ্যালো। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল, টেলিফোনের আবিষ্কারক এর বান্ধবী !!! তোমরা ফোন আবিষ্কারকের নাম না জেনেও ব্যবহার করছ ফোন, আর নাম নিচ্ছ আবিষ্কারকের বান্ধবীর। এটাই হচ্ছে ভালোবাসা! মানুষ হারিয়ে যায়, কিন্তু তার ভালোবাসা টিকে থাকে যুগের পর যুগ। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল (৩মার্চ ১৮৪৭ - ২ আগস্ট ১৯২২) প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক। টেলিফোনের অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে তিনি সবচেয়ে পরিচিত। তাঁকে 'দ্য ফাদার অফ দ্য ডেফ' নামে ডাকা হত। তাঁর বাবা, দাদা এবং ভাই সবাই একক অভিনয় ও বক্তৃতার কাজে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর মা ও স্ত্রী উভয়েই ছিলেন বোবা। এ কারণেই বোবাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি অনেক গবেষণা করেছেন। টেলিফোন উদ্ভাবনের আগে থেকেই তিনি শ্রবণ ও কথন সংশ্লিষ্ট গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৮৭৬ সালে তাঁকেই টেলিফোনের প্রথম মার্কিন পেটেন্টের সম্মানে ভূষিত করা হয়। পরবর্তী জীবনে বেল আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন যার মধ্যে রয়েছে উড়ো নৌকা এবং বিমানচালনবিদ্যা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বেল। তাঁর সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন যে টেলিফোন, সেটিকেই তিনি এক উটকো ঝামেলা জ্ঞান করতেন। এ জন্যই নিজের গবেষণা ও অধ্যয়নকক্ষে কোনও টেলিফোন রাখতেন না। বেল মারা যাওয়ার পর আমেরিকার সকল টেলিফোনে এক মিনিটের জন্য অবিরাম রিং বাজানো হয়। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য মতে যে মহান ব্যক্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগের এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন তাঁকে উপযুক্ত সম্মান দেখানোর জন্যই এমনটি করা হয়েছে। সূত্র : বিশ্বের সেরা ১০১ বিজ্ঞানীর জীবনী, আ. ন. ম. মিজানুর রহমান পাটওয়ারি, মিজান পাবলিশার্স, ঢাকা