জোহান মেন্ডেল বংশগতিবিদ্যার জনক হিসেবে আমাদের মাঝে অমর হয়ে আছেন। ১৮২২ সালের ২২জুলাই তিনি অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মেন্ডেলের জন্মদিন ২০ জুলাই বলেও প্রচলিত আছে। এই অস্ট্রিয়ান বোটানিস্ট ছিলেন ধর্মযাজক। গির্জার মাঝে থেকেছেন দিনের পর দিন। এই সুবাদে পেয়েছিলেন সময়। আর এই সময়টাকে লাগালেন কাজে। করলেন গবেষণা। গির্জার বাগানে মটরশুঁটি গাছ নিয়ে অনেক গবেষণা করে বংশগতির দু’টি সূত্র প্রদান করেন। এই সূত্র হয়তো তিনি পুর্ণাঙ্গ করে দিতে পারেননি কিন্তু তার পরও এগুলো এক দম বিশুদ্ধ সূত্র হিসেবে আজও বহাল আছে। তিনি যে সময় এই আবিষ্কার করেছিলেন তখনও বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গ বা অঙ্গাণুর আবিষ্কার হয়নি। ভাবতে অবাক লাগে কী ভাবে সামান্য মটরশুঁটি গাছকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে এমন গাণিতিক আধুনিক সূত্র প্রদান করেন। কী অধ্যবসায়ই না করেছিলেন তিনি। বিংশ শতাব্দীর পূর্বে মেন্ডেলের কাজের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। ১৯০০ সালে হুগো দ্য ফ্রিস, কার্ল করেন্স ও এরিক ফন চেমার্ক মেন্ডেলের সূত্র পুনরাবিষ্কার করেন। দ্রুত মেন্ডেলের ফলাফলের প্রতিলিপি তৈরি ও জিনগত সম্পর্ক হিসেব করা হয়। যদিও তত্ত্বটি বহু ক্ষেত্রেই তখনো প্রয়োগ করা সম্ভব ছিল না ,তবু উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা তত্ত্বটি লুফে নিলেন, কারণ এটি বংশগতির জিনগত ব্যাখ্যা প্রদান করে, যা পূর্বের ফিনোটাপিক তত্ত্বে অনুপস্থিত ছিল। এই পরবর্তী তত্ত্বটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অনুসারী ছিল কার্ল পিয়ারসন ও ডব্লু.এফ.আর. ওয়েল্ডনের জীবনপরিসংখ্যানবাদী দল, যা কিনা ফিনোটাইপিক বৈচিত্রের পরিসংখ্যানগত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। এই দলটির কঠোরতম সমালোচক ছিলেন উইলিয়াম বেটসন, যিনি প্রারম্ভিক পর্যায়ে মেন্ডেলের তত্ত্বের সফলতা নিয়ে সম্ভবতঃ সর্বাধিক পরিমণ লেখালেখি করেছেন (জীনতত্ত্ব এবং এ সংক্রান্ত অনেক পরিভাষাই তার তৈরি করা)। যখন জীবনপরিসংখ্যানবাদী গাণিতিক ও পরিসাংখ্যিক কড়াকড়ির দাবি করছিলেন আর মেন্ডেলবাদীরা জীববিজ্ঞানের গভীরতর উপলব্ধির দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত এ দুটি পদ্ধতিই একত্রিত হয়ে বিবর্তন জীববিজ্ঞানের আধুনিক সংশ্লেষের জন্ম হয়, যা ১৯১৮ সালে বিশেষত আর.এ.ফিশার কর্তৃক তৈরি হয়। ১৮৮৪ সালের ৬ জানুয়ারি ৬১ বছর বয়সে তিনি অস্ট্রিয়াতে পরলোকগমন করেন। সূত্র : বিশ্বের সেরা ১০১ বিজ্ঞানীর জীবনী, আ. ন. ম. মিজানুর রহমান পাটওয়ারি, মিজান পাবলিশার্স, ঢাকা