১। প্রতিবন্ধী শিশুদের মনে অসন্তোষ সৃষ্টি করে এমন শব্দ বারবার বলবেন না। পঙ্গু, বিকলাঙ্গ, অক্ষম—এ সব না বলে বলুন ‘শিশুটির চলাফেরায় অসুবিধা আছে’। ‘ কোনও শিশুকে ‘মুক ও বধির’ না বলে বলুন ‘শোনা আর কথা বলায় অসুবিধা’ আছে। কাউকে ‘পাগল’ না বলে ‘মানসিক ভাবে প্রতিবন্ধী’। ২। প্রতিবন্ধী শিশুদের বোঝান তারাও সাধারণ শিশুর মতোই, তারা একই রকম। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে এক জন প্রতিবন্ধী বড় শিশু, সক্ষম ছোট শিশুর গৃহশিক্ষক হতে পারে। যতবেশি প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে মিশবে ততই ভাল। ৩। প্রতিবন্ধী শিশুদের তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে দিন। একই অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ও সক্ষম শিশুদের এক সঙ্গে কাজ করতে বলুন, যাতে ভাবের আদানপ্রদানের মাধ্যমে তারা একে অপরকে বোঝে। ৪। ছোটবেলা থেকে শিশুকে লক্ষ করুন এবং তার প্রতিবন্ধকতা বুঝুন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে আগে থেকে চিহ্নিত করা গেলে তা শৈশবের শিক্ষার অংশ হয়ে পড়ে। আগে থেকে বোঝা গেলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সারিয়ে তোলা যেতে পারে এবং অসুখটি ভয়াবহ হতে পারে না। ৫। যে শিশুর প্রতিবন্ধকতার লক্ষণগুলিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে, তার বিকাশের জন্য যথাযথ স্ক্রিনিং বা পদক্ষেপের ব্যবস্থা করুন। ৬। পড়াশোনার সরঞ্জাম, ক্লাসরুম, পাঠক্রম,এ সব প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রয়োজন মাথায় রেখে মানানসই করতে হবে। বড় ছাপা অক্ষর, ক্লাসরুমের প্রথম সারিতে বসবার জায়গা এবং যার চলাফেরায় অসুবিধা আছে, তার জন্য সুবিধাজনক জায়গায় ক্লাসরুম থাকার সুব্যবস্থা করতে হবে। যাতে বিনা বাধায় হুইলচেয়ার সহ শিশু ঘুরে বেড়াতে পারে। শারীরিক ভাবে অক্ষম শিশুরা যাতে খেলাধূলা করে সে ব্যবস্থাও করতে হবে। ৭। প্রতিবন্ধী শিশুদের যে নিজস্ব কিছু চাহিদা আছে তা বাবা-মা, পরিবারের অন্য সদস্য এবং যারা শিশুদের যত্ন করেন তাঁদের বুঝতে হবে। সভায় বাবা-মাকে ডাকুন ও কথা বলুন বা জনে জনে ডেকে শিশুর সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন। ৮। হতাশ বাবা-মায়েদের শেখান কী ভাবে ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের প্রয়োজনগুলো বুঝতে হয় এবং তাদের ওপর মালসিক নিপীড়ন বন্ধ করা যায় । ৯. পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং শিশুটির ভাইবোনদের সহমর্মী হতে হবে এবং অক্ষম শিশুটির বাবা-মায়ের হতাশা ও যন্ত্রণাকে বুঝে তাদের সাহায্য করতে হবে। ১০। প্রতিবন্ধী শিশুদের বাবা-মাকে স্কুলের উন্নয়নের কাজে যুক্ত করুন। সূত্র : ইউনিসেফ, শিক্ষার ব্যপারে শিক্ষকদের আলোচনা