স্কুলের পরিবেশ পরিবর্তন আপনার স্কুল কি শিশুর সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করে? কী করে স্কুলকে শিশু-বান্ধব করবেন: • ‘মারধোর করবেন না, শৈশবকে রক্ষা করুন”- এটাই শিশু, তাদের বাবা মা ও সমাজের কাছে বার্তা ও স্লোগান হওয়া উচিত। • একটি ভালো স্কুলে অবশ্যই এক জন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর (পরামর্শদাতা) থাকা উচিত যিনি শিশুদের মানসিক সমস্যা, আবেগজনিত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন এবং শিশু, তার বাবা-মা ও অভিভাবকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উপদেশ দেবেন। • স্কুলে এক জন সমাজসেবীরও থাকা উচিত যিনি, পরিবার, সমাজ ও সমতুল অন্য কিছুর প্রতি শিশুর ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার কাজ করবেন। • নিয়মিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের সভা খুবই প্রয়োজন। এবং এই সভাতে শুধু শিশুদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে নয় , শিশুদের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি নিয়ে কথা বলতে হবে। • শিশুদের অধিকার নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আলাদা করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং সেটা যেন একটা প্রথা হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার ব্যাপারে শিক্ষকরা যেমন অন্য স্কুলে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন, এ ক্ষেত্রেও সে রকম ব্যবস্থা চালু করতে হবে। • শিশুরা যাতে বেশি করে স্কুলের অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কাজকর্মে অংশগ্রহণ করে সেটা দেখতে হবে। • যৌন শিক্ষা অবশ্যই স্কুলের অন্যতম বিষয় হওয়া উচিত, যা জীবনের চলার পথে সাহায্য করবে। • প্রাথমিক প্রয়োজন যেমন শৌচাগার, পানীয় জল, স্কুলে এই দু’টিরই যথাযথ ব্যবস্থা থাকা উচিত । বালক ও বালিকাদের জন্য আলাদা শৌচাগার থাকতে হবে। • খুব ছোট স্কুলের ক্ষেত্রে অর্থাৎ যেগুলি তাঁবু বা একটি ঘর থেকে চলে, সেগুলিতে শৌচাগারে যাওয়া ও জল পানের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। • প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি স্কুল কতটা সমব্যথী তা বোঝা যায়, ওই সমস্ত শিশুর শিক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি স্কুলে কী পরিমাণ আছে, স্কুল তার সামর্থ্যের কতটা খরচ করতে পেরেছে তা থেকে। এ ক্ষেত্রে স্কুল স্থানীয় ভাবেও সাহায্য নিতে পারে। • স্কুলের আশেপাশে ছোটখাটো বিক্রেতা না থাকাই ভালো। • শিশুরা গৃহকর্মের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এই দায়দায়িত্ব নেওয়ার মতো যথেষ্ট সক্ষম নয় তারা। স্কুল ও তার শিক্ষকরাই এটা সবাইকে শেখাবেন। • স্কুলে একটি গোষ্ঠী তৈরি করা উচিত যারা সব সময় দেখবে স্কুলের ভেতরে বা আশেপাশে কোথাও মাদক দ্রব্যের ব্যবহার বা অন্য কোনও রকম অপরাধমূলক কাজ হচ্ছে কি না। এটা করতে পারলে খুবই ভাল হবে। • কোনও শিক্ষক বা কর্মচারী যদি শিশুর উপর যৌন অত্যাচার করে তবে সে ব্যাপারে স্কুলের নির্দেশিকা থাকতে হবে এবং উপযুক্ত তদন্ত করে স্কুলকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। • স্কুল চত্বরের মধ্যে লিঙ্গ, প্রতিবন্ধকতা, জাতপাত, ধর্ম অথবা এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকতে হবে। • শিশু, অভিভাবক, পঞ্চায়েত/পুরসভাকে নিয়ে স্কুল একটি শিশু সুরক্ষা নজরদারি ইউনিট তৈরি করতে পারে। এই কাউন্সিলের কাজ হবে, যে সব শিশুর যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন আছে, তাদের সম্পর্কে তথ্য নথিভুক্ত করা এবং শিশুর উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটলে, তা পুলিশকে জানানো।