সকলের কাছে মাধ্যমিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষার মূল ধারণার আমূল পরিবর্তনের দরকার আছে। এই লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে চলেছে। এই ব্যাপারে নীতিগত পথনির্দেশিকা এ রকম --- সর্বজনীন অধিগম্যতা, সামাজিক ন্যায়, পাঠক্রমের ও পঠনপাঠনের ধরনের প্রাসঙ্গিকতা ও বিকাশ। মাধ্যমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন করার মধ্য দিয়ে সামাজিক সাম্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ মেলে। ‘অভিন্ন বিদ্যালয়ের’ ধারণাকে উৎসাহ দেওয়া হয়। যদি সামাজিক ব্যবস্থায় এই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত করতে হয় তবে বিনা সাহায্যপ্রাপ্ত বেসরকারি বিদ্যালয় সহ সব বিদ্যালয়কে সমাজের অবহেলিত অংশ এবং দারিদ্র্যসীমার নীচের (বিপিএল) যথেষ্ট পরিমাণ ছেলেমেয়েকে ভর্তি নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন করার পথে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধান উদ্দেশ্য সরকারি/স্থানীয় প্রশাসনের বিদ্যালয়ে, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে এবং সরকারি আর্থিক সাহায্য না পাওয়া বিদ্যালয়ে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দ্বারা যাতে অন্তত পক্ষে নির্দেশিত মান অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাস্তব সুবিধাদি, কর্মী ও উপকরণ পাওয়া যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সমস্ত যুবসমাজের মাধ্যমিক শিক্ষা পাওয়ার সুযোগের উন্নতিসাধনের জন্য সুবিধামতো জায়গায় (৫ কিমির মধ্যে মাধ্যমিক এবং ৭ থেকে ১০ কিমির মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক) বিদ্যালয় স্থাপন/যথাযথ ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা/ আবাসনের ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে মুক্ত বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও পাহাড়ি এবং অসুবিধাজনক এলাকায় নির্দেশিকা নমনীয় করা যেতে পারে। লিঙ্গ, আর্থ-সামাজিক কারণ, প্রতিবন্ধকতা বা অন্য কোনও বাধার জন্য যাতে কোনও ছেলেমেয়ে সন্তোষজনক মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বুদ্ধিবৃত্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা প্রসারের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে। সকল মাধ্যমিক শিক্ষার্থী যাতে উন্নত মানের শিক্ষা পায় নিশ্চিত করতে হবে। উপরোক্ত লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে অভিন্ন বিদ্যালয় ব্যবস্থার পথে অনেক দূর এগোনো সম্ভব উন্নতি হবে। সূত্র: ইংরাজি বিকাশপিডিয়া