দেশের অভ্যন্তরীণ জাতীয় উৎপাদনে শক্তি ক্ষেত্রের অবদান যাতে ৮ শতাংশের মতো হয়, সুলভ মূল্যে দূষণমুক্ত জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার কাজে এবং নিরন্তর উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।— ১) ব্যাপক ভাবে বাজেট কাটছাঁট করে এ ধরনের সংস্থাগুলির বাণিজ্যিকীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। ২) সংস্থাগুলিকে স্বশাসন দিতে হবে এবং তার দায়বদ্ধতা থাকবে বছরে এক বার অন্তত সাংসদ বা বিধানসভার কাছে। ৩) বিকল্প জ্বালানি উৎস ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশগত দিকগুলির কথা চিন্তা করে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ব্যয়ভার ছকে ফেলে বিকল্প জ্বালানি শক্তির মূল্য স্থির করতে হবে। মূল্য বা মাশুল সংশোধনের বিষয়টিকে অবশ্যই রাজনীতির আওতার বাইরে রাখতে হবে এবং বছর বছর সংশোধনের কাজ চালু থাকবে। ৪) দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী পরিবারগুলির জন্যই ভর্তুকির মাত্রা স্থির করতে হবে। এর আওতায় নিয়ে আসতে হবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদেরও। কিন্তু ভর্তুকির পরিমাণ যেন কখনওই মোট পরিষেবা ব্যয়ের পঞ্চাশ শতাংশের বেশি না হয়। ৫) বর্তমানে জ্বালানি বা শক্তি সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে বিভিন্ন দফতর ও মন্ত্রক থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করতে হবে মন্ত্রিসভা বা যোজনা কমিশনকে। আর তা করতে হবে জনস্বার্থে। ৬) পরিবেশের উপর জ্বালানি বা শক্তির প্রভাব সম্পর্কে সমীক্ষা বাধ্যতামূলক ও নির্দিষ্ট মেয়াদি করে তুলতে হবে। ৭) নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে হতে হবে স্বাধীন, স্বচ্ছ ও ওয়াকিবহাল এবং তারা দায়িত্বশীল থাকবে সংসদ বা রাজ্য বিধানসভার কাছে। ৮) শক্তি সংস্থাগুলির অদক্ষ পরিচালনায় উদ্ভুত প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং জ্বালানির মূল্য নির্ধারনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পর্কে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। সূত্র : যোজনা, মে ২০১৪