নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে শক্তি সংরক্ষণ করা সম্ভব --- ১) বাড়ি নির্মাণের সময় তার জানলা, দেওয়াল, মেঝে এমন ভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে শীতের সময় সৌরশক্তির সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং পরিচালন এবং গ্রীষ্মে সৌর উত্তাপ নিবারণ সম্ভব। যথাযথ সৌর নির্মাণ নকশার মাধ্যমেই এটা সম্ভব। এতে শক্তির খরচ কম হবে। ২) পেট্রোলিয়াম চালিত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে তেল সাশ্রয় সম্ভব। এর জন্য এক দিকে যেমন জ্বালানিহীন যানের ব্যবহারে উৎসাহ জোগানো দরকার, অপর দিকে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এনে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। সরকারি কর্তাব্যক্তি এবং সমাজের গণ্যমান্যরা এ ব্যাপারে রোল মডেল হয়ে উঠতে পারেন। ৩) ‘ফ্যান্টস লোড’ কমানো অর্থাৎ প্রয়োজনের সময় ছাড়া সমস্ত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে প্লাগ খুলে রাখলে বিদ্যুৎ বাঁচে। ৪) বেশি দক্ষতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বেশি মাইলেজে শক্তিচালিত যানবাহন ব্যবহার করে শক্তি সাশ্রয় করা যায়। ৫) বাড়িতে প্রচলিত বালবের পরিবর্তে কমপ্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট লাইট ল্যাম্প ব্যবহার। ৬) ঘরের দেওয়াল এমন ভাবে রঙ করতে হবে, যাতে প্রাকৃতিক আলোতেই কাজ চলে যায়। ৭) বাড়ির বাইরে কম আলোর ব্যবহার। ৮) জলের অপচয় বন্ধ করতে হবে। ৯) বাড়িতে যথাসম্ভব গাছপালা লাগালে দূষণরোধ এবং রোদের তাপ রোধ করা সম্ভব। ১০) অল্প অল্প রান্না না করে এক সঙ্গে বেশি পরিমাণ রান্না করলে জ্বালানি খরচ কমে। ১১) রান্নার পরিমাণ অনুযায়ী রান্নার পাত্র ব্যবহার করতে হবে। ১২) রেফ্রিজারেটর যথাসম্ভব ভর্তি রাখলে বিদ্যুৎ খরচ কমবে। এ ছাড়া খালি থাকলে প্লাগ খুলে রাখতে হবে। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী তারকাচিহ্নিত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। ১৩) ওয়াশিং মেশিনে ৩০-৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাপড় কেচে রোদে শুকোতে হবে। ১৪) বাইকের পরিবর্তে হেঁটে অথবা বাইসাইকেল ব্যবহার করে শক্তি বাঁচানো যায়। ১৫) বিভিন্ন সামগ্রী মোড়ক ছাড়া অথবা পুনর্ব্যবহারযোগ্য মোড়কে বাজারজাত করতে হবে। ১৬) বৈদ্যুতিক এবং শক্তিচালিত সরঞ্জামের ব্যবহার কমাতে হবে। ১৭) বাড়িতে যথাসম্ভব একই আলো এবং পাখার তলায় সকলে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারলে আলাদা আলাদা আলো-পাখার সাশ্রয় হয়। ১৮) সরকারি অফিসে কিংবা রাস্তায় প্রয়োজনাতিরিক্ত আলোর ব্যবহার কমানো দরকার। ১৯) শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের পিরবর্তে প্রাকৃতিক হাওয়া কিংবা ফ্যানের উপর নির্ভরতা বাড়ানো প্রয়োজন। ২০) রান্নার সময় প্রেশার কুকার ব্যবহার এবং দানাজাতীয় শস্য আগে থেকে ভিজিয়ে রাখলে জ্বালানি খরচ বাঁচে। সমস্ত রান্নাবান্নাই ঢেকে করাটা স্বাস্থ্যসম্মত ও জ্বালানি সাশ্রয়কারী। সূত্র : যোজনা, মে ২০১৪