ইঁদুর ফসলের ক্ষেত্রে বেশ বড় বিপদের কারণ। বিশেষ করে বর্ষার পর এই বিপদ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। ইঁদুরের হাত থেকে ফসল বাঁচানোর জন্য কৃষকরা যে সব উপায় অবলম্বন করেন সেগুলো হল --- কৃষকরা জোয়ারের আটার সঙ্গে ইঁদুরের বিষ মিশিয়ে একটি প্লাস্টিক কভারে মুড়ে গাছের মাথায় ছুড়ে দেন। এই মিশ্রণ খেয়ে ইঁদুরের মৃত্যু হয়। কিন্তু বর্ষাকালে এই পদ্ধতি একেবারেই কার্যকর হয় না। কৃষকরা ভাজা বাদামের গুঁড়ো, তিল আর ধনে বীজের সঙ্গে ইঁদুর মারা বিষ মিশিয়ে একটি কাপড়ে মুড়ে গাছের মাথায় রেখে দেন। কিন্তু এই পদ্ধতি পাখিদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক। পাখিরা এই বিষ খেয়ে মারা যায়। কৃষকরা পেশাদার ইঁদুর-ধরিয়েদের নিয়োগ করেন। কিন্তু তাতে খরচ আছে। একটি ইঁদুর ধরতেই ২৫-৩০ টাকা খরচ নিয়ে নেয়। নতুন উদ্ভাবনী ফাঁদ কর্ণাটকের টুমকুর জেলার অরুণকুমার এ ধরনের বিপদের হাত থেকে বাঁচার জন্য একটি অভিনব ফাঁদ আবিষ্কার করেছেন। এটি পরিবেশ-বান্ধবও বটে। পুরনো বাঁশের বাস্কেটের চারটি কোণের সঙ্গে তার দিয়ে ফাঁদটি বেঁধে রাখা হয়। এর সঙ্গে একটি প্লাস্টিকের দড়ির সংযোগ থাকে। প্লাস্টিকের দড়িটির সঙ্গে আবার একটি নারকেলের মালার সংযোগ থাকলে প্রয়োজনে যাকে ওঠানো নামানো যায়। বাঁশের বাস্কেটের মধ্যে টানলে পড়ে যাবে এমন ফাঁদ তৈরি করা হয় এবং তার সঙ্গে আটকানো থাকে নারকেলের শাঁস। ইঁদুর নারকেল দেখে আকৃষ্ট হয় এবং ফাঁদে পড়ে তার মৃত্যু হয়। একটি ফাঁদে তিন-চারটি ইঁদুর মারা পড়ে। মরে যাওয়া ইঁদুরগুলি হাতে করে তুলে এনে মাটিতে পুঁতে দেওয়াই ভালো। কিন্তু এই পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ সফল বলা যায় না তার কারণ মৃত ইঁদুরের গা থেকে এক ধরনের ফেরোমনস নির্গত হয় যা অন্য ইঁদুরকে সতর্ক করে দেয়। ফলে অন্য ইঁদুররা ধারেপাশে না গিয়ে সরে যায়। অরুণকুমারের এই ফাঁদটির দাম পড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। সূত্র : দ্য হিন্দু