২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইনের ৪ ও ৫ নম্বর ধারার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় গ্রামীণ বিদ্যুদয়ন নীতি প্রজ্ঞাপিত করেছে। জাতীয় গ্রামীণ বিদ্যুদয়ন নীতি ২০০৬-এর কিছু প্রাসঙ্গিক অংশ --- এই নীতিতে বলা হয়েছে ২০০৯ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়ি যাতে বিদ্যুৎ পায় তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে। ২০১২ সালের মধ্যে গুণগত মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ যুক্তিসঙ্গত দামে সরবরাহ করা এবং বাড়ি পিছু প্রতি দিন অন্তত এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের লক্ষ্যধার্য করা হয়েছে। যে সব গ্রাম বা বসতি অঞ্চলে গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয় সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য একক ব্যবস্থার ভিত্তিতে গ্রিডবিহীন সমাধানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেখানে এ ভাবেও বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে না সেখানে একমাত্র বিকল্প হল সোলার ফোটোভোলটাইকের মতো বিচ্ছিন্ন আলোক প্রযুক্তি ব্যবহার করা। তবে সে ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রত্যন্ত গ্রামকে বিদ্যুদয়িত গ্রাম বলা না-ও যেতে পারে। রাজ্যসরকারগুলিকে ৬ মাসের মধ্যে একটি গ্রামীণ বৈদ্যুদয়নের পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে ও তা প্রজ্ঞাপিত করতে হবে। সেই পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ বণ্টন কাঠামোর খুঁটিনাটি বিস্তারিত ভাবে জানাতে হবে। এই পরিকল্পনাকে জেলা উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত করে তার মধ্যে ঢুকিয়েও নেওয়া যেতে পারে। উপযুক্ত কমিশনকে পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদে জানাতে হবে। বিদ্যুদয়িত গ্রাম বলে কোনও গ্রাম যদি ঘোষণার উপযুক্ত হয় তা হলে সে ব্যাপারে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রথম সার্টিফিকেট ইস্যু করে জানাবে। তার পোর্ট থেকে প্রতি বছর ৩১ মার্চ গ্রাম পঞ্চায়েতকে ওই বিদ্যুদয়িত গ্রামের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট পেশ করতে হবে। রাজ্যসরকার জেলা স্তরে তিন মাসের মধ্যে জেলা পরিষদের সভাপতির নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করবে। এই কমিটিতে জেলা স্তরের এজেন্সিগুলির প্রতিনিধি, গ্রাহক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়বদ্ধ ব্যক্তিরা থাকবেন। দেখতে হবে কমিটিতে যেন উপযুক্ত সংখ্যায় মহিলারা থাকেন। জেলা স্তরের কমিটি জেলায় বিদ্যুদয়নের কাজটির সমন্বয় সাধন ও পর্যালোচনা করবে। তা ছাড়া গ্রাহকদের সন্তুষ্টির ব্যাপারটিও তারা দেখবে। পঞ্চায়েতি রাজ সংগঠন নজরদার/উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করবে। অপ্রচলিত উৎস থেকে শক্তি উৎপাদনের যে সব ব্যবস্থা থাকবে সেখানে সহায়ক পরিষেবা দেওয়া এবং প্রযুক্তিগত সাহায্য দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রাজ্য সরকারগুলিকে করতে হবে। সূত্র : শক্তি মন্ত্রক