পশ্চাৎপট শক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার যে চ্যালেঞ্জ ভারতের সামনে রয়েছে তা মোকাবিলা করা এবং পরিবেশের স্থায়ী উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে সরকার জওহরলাল নেহরু জাতীয় সৌর মিশন (জেএনএনএসএম) চালু করেছে। এটি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির একটা প্রধান উদ্যোগ। গোটা বিশ্বে আবহাওয়া পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য ভারতের তরফে এটি একটি বড় অবদান হিসাবে স্বীকৃত। এই মিশনের লক্ষ্য হল কেন্দ্রীভূত ও বিকেন্দ্রীভূত ভাবে দেশের প্রতি প্রান্তে সৌরশক্তির কারিগরী প্রয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ গঠন করা। ২০১৩-এর মার্চ মাস পর্যন্ত ছিল প্রথম পর্ব। এই পর্বে জেএনএনএসএম উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছে ও গতি পেয়েছে। মার্চ ২০২২ পর্যন্ত চলছে দ্বিতীয় পর্ব। ঠান্ডা-গরম করার জন্য যে শক্তি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় তা মেটাতে হাইব্রিড সিস্টেম-সহ গ্রিড-বিচ্ছিন্ন পদ্ধতি আরও বেশি করে প্রয়োগ করার ব্যাপারে চলতি পর্বের পরিকল্পনা-রূপরেখায় জোর দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতির ক্ষেত্রে এখন প্রয়োজন খরচ কমানোর বিষয়টির উপর জোর দেওয়া। মুখ্য চালেঞ্জ হল একটি সহায়ক কাঠামো তৈরি করা উৎপাদকদের জন্য বাজার বাড়ানো। এই প্রকল্প/কর্মসূচি গ্রিড বিচ্ছিন্ন ও বিকেন্দ্রীকৃত সৌরশক্তি প্রয়োগের চাহিদা পূরণ করবে। উদ্দেশ্য জওহরলাল নেহরু জাতীয় সৌর মিশন অনুসারে যে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে তাতে পৌঁছতে গ্রিড-বিচ্ছিন্ন সৌর-তাপীয় প্রয়োগের উপর জোর দেওয়া (জল/বাতাস গরম করার সৌর পদ্ধতি, সোলার কুকার, সোলার কনসেনট্রেটিং সিস্টেম, সোলার থারমাল পাওয়ার প্যাক ইত্যাদি)। ব্যক্তিগত/গোষ্ঠীগত/সংস্থাগত/শিল্পগত ক্ষেত্রে সৌর-তাপীয় ব্যবস্থার কার্যকর ও উদ্ভাবনী প্রয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে সচেতনতা তৈরি করা ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। বাজারের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক মডেল তৈরির জন্য উৎসাহ দেওয়া। সীমাবদ্ধ শর্তের মধ্যে চাহিদাচালিত নমনীয় অবস্থার কথা মাথায় রেখে চ্যানেল পার্টনার ও সম্ভাব্য সুবিধাভোগীকে সাহায্য করা। গ্রিড-বিচ্ছিন্ন বিকেন্দ্রীকৃত সৌর-তাপীয় ব্যবস্থার প্রয়োগকে পণ্যের পর্যায়ে নিয়ে যেতে দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন সাধন। কনসালটেন্সি সার্ভিস, সেমিনার, সিম্পোসিয়া, দক্ষতা বৃদ্ধি, সচেতনতার প্রচার, মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে নজর দেওয়া কেরোসিন, ডিজেল এবং যেখানে সম্ভব সেখানে কাঠের ব্যবহারের বিকল্প ব্যবস্থা করা।