পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে এমন পদার্থ বা দ্রব্য নির্গত হলে তাকে দূষণ বলা হয়। সাধারণত মানুষের কাজকর্মের ফলে এই অবস্থা সৃষ্টি হলে পরিবেশ দূষণ হয়েছে বলা যায়। পরে যদি পরিবেশের উপর মানুষের কোনও কাজের খারাপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তা হলে সেই কাজকে দূষণের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। দূষণের উৎস গুরুতর দূষণের উৎস হল : কেমিকাল প্লান্ট, তৈল শৌধনাগার, পরমাণু বর্জ্য জড়ো হওয়া, দৈনন্দিন জঞ্জাল-আবর্জনার স্তূপ, পিভিসি কারখানা, দহন-চুল্লি, গাড়ির কারখানা, প্লাস্টিকের কারখানা, পশুপালনের বড় খামার যেখানে প্রচুর পরিমাণ পশুবর্জ্য নির্গত হয়। দূষণের আরও উৎস : পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা তেলের ট্যাঙ্কারে দুর্ঘটনা ঘটলে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি হতে পারে। খুবই সাধারণ কয়েকটি পরিবেশ দূষণকারী পদার্থ : ক্লোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন (সিএফএইচ), সিসার মতো ভারী ধাতু (গ্যাসোলিনে এবং লেড পেইন্টে এর ব্যবহার হয়), ক্যাডমিয়াম (রিচার্জ করা যায় এমন ব্যাটারিতে এর ব্যবহার হয়), ক্রোমিয়াম, দস্তা, আর্সেনিক এবং বেঞ্জিন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের একটা মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল পরিবেশ দূষণ। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায়, হারিকেন জাতীয় ঝড় হলে নিকাশি ব্যবস্থা দূষিত হয়। এ ধরনের ঝড় হলে যদি নৌকা, অটো ইত্যাদি উল্টে যায় তা হলে বা উপকূলবর্তী শোধনাগারে ক্ষতি হলে পেট্রোকেমিক্যাল দূষণ ঘটে। দূষণ সচেতনতা দূষণ সচেতনতা বাড়ানোর আগে তেমন কোনও প্রয়াস চোখে পড়ত না। কিন্তু পৃথিবী জুড়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে কথাবার্তা শুরু হওয়ায় দূষণ সম্পর্কে সব মহলেই ভাবনাচিন্তা চলেছে। সচেতনতার প্রথম ধাপ হওয়া উচিত স্কুল।প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তর থেকে দূষণ সম্পর্কে সচেতন করার বিষয়টির উপর জোর দিতে হবে। এখন দেশের বহু রাজ্যেই দূষণের বিষয়টি পাঠক্রমে ঢোকানো হয়েছে। কিন্তু অনেক জায়গাতেই তা বাধ্যতা মূলক করা হয়নি। স্কুলগুলি দূষণ সচেতনতার ব্যাপারে নিজস্ব উদ্যোগে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতারও ব্যবস্থা করা হয়। সূত্র : যোজনা, জানুয়ারি ২০১৫