গ্যাবিয়ন স্ট্রাকচার জলস্রোতের ধারাকে আতকাতে এটি এক ধরনের চেক ড্যাম, যা ধারাস্রোতের উপরেই নির্মাণ করা হয়। ধরাস্রোতের পিছনে কার্যত কোনও প্লাবিত অঞ্চল থাকে না। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত বোল্ডার দিয়ে ছোট বাঁধ তৈরি করা হয় এবং এটি জলধারার দুই পাড়ের সঙ্গে স্টিলের তার বেঁধে ধরে রাখা হয়। এ ধরনের বাঁধের উচ্চতা হয় সচরাচর ০.৫ মিটার। যেখানে স্রোতের বিস্তার ১০ মিটারের কম সেখানেই সাধারণত এ ধরনের বাঁধ ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত জল এই কাঠামোর উপর দিয়ে বয়ে চলে এবং ইতিমধ্যে অতিরিক্ত কিছু জল রিচার্জের জন্য জমা হয়ে থাকে। জলস্রোতে যে পলি থাকে তা জমা হয় বোল্ডারের ফাঁকে ফাঁকে। কালে কালে বাঁধের গায়ে গাছগাছালি জন্মায়। ফলে বাঁধ ভেদ করে জল বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে বৃষ্টির হয়ে যাওয়ার পর ভূতলের উপর অনেক ক্ষণ জল ধরে রেখে তা যথেষ্ট পরিমাণে ভূগর্ভে পাঠানোর ব্যবস্থা করে এই বাঁধ। পারকোলেশন ট্যাঙ্ক ভূতলে কৃত্রিম ভাবে তৈরি জলাশয়ই হল পারকোলেশন ট্যাঙ্ক। এই জলতলটি অত্যন্ত সুভেদ্য। তাই এই জলাশয়ের তলার জমি অত্যন্ত ভালো ভাবে জলকে ভূগর্ভে পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ফলে এ ধরনের ট্যাঙ্ক নির্মাণ করার উদ্দেশ্যই হল জল রিচার্জ করা। পারকোলেশন ট্যাঙ্ক সচরাচর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধারার স্রোতের উপর নির্মাণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে জলস্রোত যেন প্রচণ্ড ভাঙা এবং ক্ষয়প্রাপ্ত পাথরের উপর দিয়ে সব সময় নীচের দিকে ধাবিত হয়। নীচের দিকে রিচার্জ এলাকায় যেন উপযুক্ত সংখ্যায় কুয়ো থাকে এবং চাষযোগ্য জমি থাকে। রিচার্জ করা ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করার জন্য এগুলি খুবই জরুরি। পারকোলেশন বা জল নীচে পাঠানোর ক্ষমতা কতটা তার উপর নির্ভর করে পারকোলেশন ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হয়। সচরাচর পারকোলেশন ট্যাঙ্কের ক্ষমতা হয় ০.১ থেকে ০.৫ এমসিএম। এই ধরনের ট্যাঙ্কে ৩ থেকে ৪.৫ মিটার উচ্চতার জল ধরে রাখা যেতে পারে। পারকোলেশন ট্যাঙ্ক সচরাচর মাটির বাঁধ। একমাত্র ঢালের জন্য বাঁধানো কাঠামো ব্যবহার করা হয়। পারকোলেশন ট্যাঙ্কের মূল উদ্দেশ্য হল ভূগর্ভস্থ জল রিচার্জ করা। সুতরাং এর তল দিয়ে জল কিছুটা বের হয়ে গেলেও আপত্তিকর কিছু নেই। সাড়ে ৪ মিটার উচ্চতার বাঁধ হলে কাট-অফ ট্রেঞ্চের দরকার নেই। প্রাকৃতিক ভূমিই জল রিচার্জ করার জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সুত্রঃ PIB,GoI