যেখানে অগভীর জলস্তর শুকিয়ে গিয়েছে এবং চালু টিউবওয়েলগুলি গভীর জলস্তর থেকে জল তোলে সেখানে চালু টিউবওয়েলগুলি ব্যবহার করে গভীর জলস্তরকে বৃষ্টির জলের সাহায্যে রিচার্জ করা যায়। টিউবওয়েল পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য বৃষ্টির জল ধরার জন্য ছাদের ড্রেনের সঙ্গে ১০ সেমি ব্যাসের পিভিসি পাইপ যুক্ত করা হয়। প্রথম বর্ষার ছাদ-ধোওয়া প্রথম জলধারা ড্রেনপাইপের তলা দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেওয়া হয়। তার পর ড্রেনপাইপের তলা বন্ধ করে দিয়ে পরের বৃষ্টিধারা একটি ‘টি’এর মধ্যে দিয়ে নিয়ে গিয়ে অনলাইন পিভিসি ফিল্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। জল টিউবওয়েলে প্রবেশের আগেই ফিল্টারে পরিশ্রুত করা যেতে পারে। ফিল্টারটি ১-২ মিটার লম্বা এবং পিভিসি পাইপ দিয়ে তৈরি। ছাদের মাপের উপর এর ব্যাস নির্ভর করছে। ছাদটির ক্ষেত্রফল যদি ১৫০ বর্গমিটারের কম হয় তা হলে ১৫ সেমি ব্যাসের ফিল্টার লাগাতে হবে। ছাদের ক্ষেত্রফল আরও বেশি হলে পিভিসি পাইপের ব্যাস হবে ২০ সেমি। দু’দিকে ৬.২৫ সেমি রিডিউসার দিয়ে ফিল্টারের ব্যবস্থা করতে হয়। ফিল্টারটি পিভিসি স্ক্রিনের সাহায্যে তিনটি চেম্বারে ভাগ করা হয় যাতে সব ধরনের বর্জ্য মিশে না যায়। প্রথম চেম্বারটি কাঁকড় দিয়ে ভর্তি করা হয়। মধ্যে নুড়ি পাথর দেওয়া হয় (১২-২০মিমি) এবং শেষ চেম্বারে (২০-৪০ মিমি) মাপের বড় নুড়ি দেওয়া হয়। যদি ছাদের এলাকা খুবই বড় হয় তা হলে একটি ফিল্টার পিট তৈরি করা যেতে পারে। ছাদ থেকে বৃষ্টির জল ধরে তা নীচের তলায় সংগ্রহ কক্ষগুলি বা পরিশ্রুতকরণ কক্ষগুলিতে পাঠানো হয়। এই সংগ্রহ কক্ষগুলি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত এবং ফিল্টার পাইপের সাহায্যে ফিল্টার পিটের সঙ্গেও যুক্ত। ফিল্টার পাইপের ঢাল থাকে ১:১৫। কতটা জল রিচার্জ করার জন্য পাওয়া যায় তার উপর ফিল্টার পিটের মাপ ও আকার নির্ভর করে এবং এই পিটের ০.৩০ থেকে ০.৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত একেবারে নীচে থাকে বোল্ডার, মাঝে নুড়ি এবং একদম উপরে থাকে বালি। এটি পর্দা দ্বারা আলাদা করা থাকে। পিটটি দুই কক্ষে ভাগ করে নেওয়া হয়। একটি কক্ষ বা চেম্বারে থাকে ফিল্টার করার উপযোগী পদার্থ এবং অন্য কক্ষটি ফাঁকা রাখা হয়। অতিরিক্ত ফিল্টার করা জল ওই কক্ষে জমা রাখার ব্যবস্থা থাকে। ওই কক্ষে জমা হওয়া জলের উপর নজর রেখে বোঝা যায় ঠিকমতো পরিশ্রুতকরণ হচ্ছে কিনা। পিটের তলা থেকে একটি পাইপ লাইন নিয়ে গিয়ে কুয়োয় জল ফেলার ব্যবস্থা করা হয়। সুত্রঃ PIB,GoI