গ্রামীণ এলাকায় জলবিভাজিকাকে একটা ইউনিট হিসাবে ধরে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা হয়। ভূতলে জল ছড়িয়ে দেওয়ার পদ্ধতিটি বহুল ব্যবহৃত। কারণ এর ফলে প্রচুর জল রিচার্জ করা যায়। ঢাল বেয়ে, ছোট নদী বা বড় নদী দিয়ে বা নালা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জল যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়। শহরাঞ্চলে ছাদ দিয়ে গড়িয়ে পড়া বা পাকা কিংবা কাঁচা পথ দিয়ে গড়িয়ে যাওয়া বৃষ্টির জল নষ্ট হয়। এই জলকে ভূগর্ভের জলস্তরে ধরে রেখে প্রয়োজনের সময়ে তা ব্যবহার করা যায়। শহরাঞ্চলে বৃষ্টির জল ধরার ব্যবস্থাটির নকশা এমন করতে হয় যে জল ধরা ও রিচার্জ করার জন্য যেন বেশি জায়গা না লাগে। শহরাঞ্চলে বাড়ির ছাদে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের বিভিন্ন প্রযুক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রিচার্জ পিট। রিচার্জ পিটের বৈশিষ্ট্য পলিমাটিসমৃদ্ধ এলাকায় যেখানে ভেদ্য পাথর জমির উপরের স্তরেই রয়েছে অথবা মাটির অল্প নীচেই রয়েছে সেখানে রিচার্জ পিটের সাহায্যে ভূগর্ভে জল পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়। এই পদ্ধতিতে বাড়ির ছাদের মাপ ১০০ বর্গমিটার হলেই চলবে। অগভীর জলস্তরে জল রিচার্জ করা যাবে, এটা ধরে নিয়ে তার উপযোগী করে এই বাড়িগুলি তৈরি করা হয়। রিচার্জ পিট যে কোনও মাপের, যে কোনও আকারের হতে পারে। এটি সাধারণত ১-২ মিটার চওড়া হয়, গভীরতা হয় ২-৩ মিটার। পিটটি ৫-২০ সেমি বোল্ডার, ৫-১০ মিমি নুড়ি, বড় দানা বালি (১.৫-২ মিমি) দিয়ে বোঝাই করা হয়। পিটে সব চেয়ে নীচে থাকে বোল্ডার, তার উপরে নুড়ি এবং সব চেয়ে উপরে বালি থাকে যাতে যে বয়ে যাওয়া জল ধরা হবে তার মাটি মোটা দানা বালির উপরে জমা হয় এবং তা সহজেই সরিয়ে নেওয়া যায়। ছোট মাপের ছাদের জন্য পিটটিতে ভাঙা ইট-পাথর ভর্তি করা যেতে পারে। ছাদে একটি জাল ব্যবহার করা হয় যাতে ধুলো ময়লা, গাছের পাতা বা অন্য কঠিন বর্জ্য জলে না মেশে। জমিতে একটি পরিশ্রুতকরণ কক্ষ/সংগ্রহ কক্ষও তৈরি করা যেত পারে যাতে রিচার্জিংয়ের আগে জলকে পরিশ্রুত করে নেওয়া যায়। উপরের স্তরের বালি মাঝেমাঝেই পরিষ্কার করে নিতে হবে। এর ফলে রিচার্জ করার পরিমাণ সব সময় ঠিক থাকবে। বর্ষার প্রথম ধারা বাতিল করার জন্য সংগ্রহ কক্ষের আগে একটি বিকল্প ব্যবস্থা করে নিতে হবে। সুত্রঃ PIB,GoI