শক্তি-সুরভি হল রান্নাঘরের বর্জ্য ভিত্তিক জৈবগ্যাসের প্লান্ট। চিরায়ত জৈবগ্যাস প্লান্টের নীতি অনুযায়ী এটি কাজ করে। কিন্তু শহরে ব্যবহারের উপযোগী করে এতে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পদ্ধতির ভিতর একটি জল ভিতরে নিয়ে আসার পাইপ যুক্ত রয়েছে, রয়েছে একটি ডাইজেস্টর, গ্যাস হোল্ডার, ওয়াটার জ্যাকেট, গ্যাস বহির্গমনের পাইপ ও গ্যাস বণ্টন করার ব্যবস্থা। এটি তৈরি করেছে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারির বিবেকানন্দ কেন্দ্রের ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট। কোন দিক দিয়ে এই ইউনিটটি চিরায়ত জৈব গ্যাস প্লান্টের চেয়ে উন্নততর বিকল্প? চিরায়ত প্লান্টে গোবর হল প্রধান কাঁচামাল। প্রতি দিন সেই কাঁচামালের কাদা-মিশর্ণ তৈরি করে গ্যাস ট্যাঙ্কে ঢালতে হয়। কিন্তু শক্তি-সুরভির জন্য কেবলমাত্র গোড়ার দিকে চার্জ করার জন্য গোবরের প্রয়োজন পড়ে। পরের দিকে রান্নাঘরের বর্জ্য বা অন্যান্য বর্জ্য দিয়ে (নিরামিষ বা আমিষ অভুক্ত বর্জ্য খাদ্য), সবজির ফেলে দেওয়া অংশ, গমকলের বর্জ্য, অভোজ্য তৈলবীজের খোল (জাট্রোপা, নিম প্রভৃতি) গ্যাস উৎপন্ন করার জন্য যথেষ্ট। ইউনিটটি দু’টি আকর্ষণীয়ও রঙের হয়। এর ধারণক্ষমতা ৫০০ থেকে ১,৫০০ লিটার পর্যন্ত। বাড়ির ক্ষেত্রে এটি পিছনের উঠোনে বসানো যায় আর ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ছাদে বা ছায়ার তলায় বসানো যায়। কার্যকারিতা ১ ঘনমিটার গ্যাসের প্লান্টে, যা ০.৪৩ কেজি এলপিজির সমান ৫ কেজি বর্জ্য দরকার। হিসাব করে দেখা গেছে, ১০০ ঘনমিটার জৈবগ্যাসে ৫ কিলোওয়াট শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব যা একটি বাড়ির ২০ ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটাতে পারে। অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে এটি গ্যাস উৎপন্ন করে, কোনও গন্ধ বা মাছির উপদ্রব থাকে না। আবহাওয়া পরিবর্তনের কোনও প্রভাব এর উপর পড়ে না। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমণ কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর এবং অব্যবহৃত পাঁকটি ভালো জৈবসার হিসাবে ব্যবহার করা যায়। বিস্তারিত বিবরণের জন্য যোগাযোগ বিবেকানন্দ কেন্দ্র, ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট, বিবেকানন্দপুরম, কন্যাকুমারি – ৬২৯৭০২, তামিলনাড়ু ই মেল vknardep@gmail.com ফোন ০৪৬৫২ ২৪৬২৯৬, ০৪৬৫২ ২৪৭১২৬। সূত্র : The Hindu