অভোজ্য তেল তৈরি করে এমন বহু গাছ আছে যেখান থেকে জৈবজ্বালানি পাওয়া যায়। এর মধ্যে অন্যতম হল করঞ্জা বা পোঙ্গামিয়া। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করঞ্জা উৎপন্ন হয়। করঞ্জার বৈশিষ্ট্য এই গাছ নাইট্রোজেন আত্মীকরণ করে এবং ফলে জমির উর্বরতা বাড়ে। পশু এটি সচরাচর খায় না। এই গাছ জমা জল, ক্ষারীয় জমি বা লবণাক্ত জমি সহ্য করতে পারে। এটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সহ্য করতে পারে (যেমন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত।) এটি নাবাল জমি, অনুর্বর জমি বা চাষের জমিতে লাগানো যায়। করঞ্জা বীজে ৩০-৪০ শতাংশ তেল রয়েছে। ভূমিক্ষয় রোধে এটি অত্যন্ত উপযোগী। ঘনবদ্ধ বিস্তৃত শিকড় থাকায় বালিয়াড়িতেও বেড়ে উঠতে পারে। এর শিকড়,পাতা, ছাল, আঠা এবং ফুলে ভেষজ উপাদান রয়েছে। মজুত রাখা শস্যে করঞ্জার শুকনো পাতা রেখে দিলে কীটপতঙ্গ আক্রমণ করে না। করঞ্জা তেলের ধর্ম মূলত বীজ থেকে উৎপন্ন অভোজ্য তেল সংগৃহীত বীজে ৯৫ শতাংশ শাঁস থাকে বীজ থেকে ২৭ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তেল পাওয়া যায়। যখন যান্ত্রিক উপায়ে শাঁস থেকে তেল উৎপন্ন করা হয় তখন ২৪ থেকে ২৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত তেল পাওয়া যায়। অপরিশোধিত তেল হলুদ কমলা থেকে বাদামি রঙের হয়। রেখে দিলে ক্রমশ তা ঘন হতে থাকে। এর স্বাদ তেতো, গন্ধ সহ্য করা যায় না এবং অভোজ্য। জৈবজ্বালানি হিসাবে ব্যবহার ছাড়াও আলো জ্বালাতে, লুব্রিকান্ট, কীটনাশক ও ওয়াটার-পেন্ট বাইন্ডার হিসাবে এবং চামড়া ও সাবান শিল্পে করঞ্জার তেল ব্যবহার করা হয়। বাত এবং মানুষ ও পশুর চর্মরোগের চিকিৎসায় এই তেল ব্যবহার করা হয়। তেল বের করে নেওয়ার পর পড়ে থাকা পদার্থটি নাইট্রোজেন-সমৃদ্ধ। তাই মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির কাজে একে লাগানো যায়। ওই পদার্থ মাটিতে দিলে কীটনাশকের কাজ করে বিশেষ করে নিমাটোড প্রতিরোধ করে। করঞ্জার তেল বনাম সাধারণ পেট্রোল/ডিজেল জৈবজ্বালানি হিসাবে করঞ্জার তেলের সাধারণ ধর্ম প্রথাগত ডিজেলেরই মতো। এই জ্বালানি সাধারণ ডিজেলের চেয়ে পরিষ্কার (পরিবেশ-বান্ধব)।