<p style="text-align: justify; "><span>ইথানল পরিষ্কার, বর্ণহীন তরল। এর এমন একটা গন্ধ আছে যা বেশ মধুর। পাতলা জলীয় দ্রবণে এটি মিষ্টি গন্ধের, কিন্তু ঘন দ্রবণে এর গন্ধ কিছুটা জ্বালার সৃষ্টি করে। ইথানল ১১৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গলে যায়। ৭৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফোটে। এর ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এর ঘনত্ব ০.৭৮৯ গ্রাম/মিলিমিটার।</span></p> <p style="text-align: justify; ">প্রাচীনকাল থেকেই আখের রস গেঁজিয়ে ইথানল তৈরি করার পদ্ধতি চালু। আজও পানীয় হিসাবে ব্যবহৃত ইথানল এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত অর্ধেকের বেশি ইথানল এই পদ্ধতিতেই তৈরি হয়। আন্তজার্তিক স্তরে আখ, মিষ্টি বাজরা, বিট থেকে ইথানল ইথানল তৈরি করা হয়। ভুট্টা, গম এবং অন্যান্য দানাশস্যে যে স্টার্চ থাকে তার থেকে খুব সহজেই চিনি তৈরি করা যায়।</p> <p style="text-align: justify; ">ভারতে প্রাথমিক ভাবে ইথানল উৎপাদন করা হয় আখের গুড় থেকে। এটি প্রথম প্রজন্মের জৈব জ্বালানির উদাহরণ। এর চিনি-সমৃদ্ধ বা চিনিতে রূপান্তর করা যায় এমন পদার্থ-সমৃদ্ধ জৈবভরকে ব্যবহার করে ইথানল তৈরি করা হয়। ইস্ট থেকে প্রাপ্ত উৎসেচক সাধারণ চিনিকে ইথানল ও কার্বন ডাই অক্সাইডে রূপান্তরিত করে। আলু, ভুট্টাদানা,গম এবং অন্যান্য গাছ-গাছালি থেকে প্রাপ্ত স্টার্চ গেঁজিয়েও ইথানল তৈরি করা যায়। প্রথমে স্টার্চকে সাধারণ চিনিতে পরিণত করতে হবে। বার্লি বা যব থেকে নিঃসৃত এক ধরনের উৎসেচক স্টার্চকে চিনিতে পরিণত করে। বার্লি থেকে উৎসেচক নির্গত করার পদ্ধতিতে মল্টিং বলে। এই পদ্ধতিই স্টার্চ-যুক্ত গাছ থেকে (যেমন ভুট্টা,গম) বিয়ার উৎপাদন করার প্রথম ধাপ।</p> <h3><strong>ইথানল যখন জ্বালানি</strong><strong> </strong></h3> <p style="text-align: justify; ">জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় ইথানল অনেক বেশি পরিবেশ-বান্ধব এবং আর্থিক দিক থেকে সাশ্রয়কারী। তাই ইন্টারনাল কমবাসচন ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসাবে একক ভাবে বা অন্য জ্বালানির সঙ্গে মিশিয়ে ইথানল ব্যবহার করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। মোটরগাড়িতে ইথনালের ব্যবহার ইন্টারনাল কমবাসচন ইঞ্জিন আবিষ্কারের সময় থেকেই চলে আসছে। ১৮৯৭ সালে নিকোলাস এ অটো প্রথম ইঞ্জিনের কাজকর্ম নিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে ইথানলকে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করে সাফল্য পান। ১৯২০ থেকে ব্রাজিল ইথানলকে এই ধরনের জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করছে।</p> <p style="text-align: justify; ">যে কোনও মাত্রার দ্রবণে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানলের সংমিশ্রণ ঘটানো যায়। এমনকী ১০০ ভাগ খাঁটি ইথানলেও পেট্রোল মেশান যায়। অ্যানহাইড্রাস ইথানল বা জলবিহীন ইথানলকেও পেট্রোলের সঙ্গে বিভিন্ন মাত্রায় মিশিয়ে পেট্রোলজাত জ্বালানির ব্যবহার কমানো যায়। সেই সঙ্গে বায়ু দূষণের পরিমাণও কমে।</p> <p style="text-align: justify; ">সাধারণ পেট্রোলের ক্ষেত্রে ইথনাল অক্সিজেনেট অ্যাডিটিভের কাজ করে। আগে এই কাজে মিথাইল টি-বুটা ইথার (এমটিবিই) ব্যবহার করা হত। কিন্তু এই পদার্থটি মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলের দূষণের অন্যতম কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। ইথানল বায়োডিজেল উৎপাদনের কাজেও ব্যবহার করা যায়।</p> <p style="text-align: justify; ">অ্যালকোহল জাত জ্বালানি ইথানল গুণগত দিক দিয়ে বেশ উন্নত, ইঞ্জিনের অসাধারণ কাজের ক্ষেত্রে হাই অক্টেন জ্বালানি। ইথানল ব্যবহারে ধোঁয়া নির্গমন কম হয়। হেনরি ফোর্ড ১৯০৮ সালে মডেল-টি গাড়ি বাজারে আনার পরই জ্বালানি হিসাবে অ্যালকোহল তথা ইথানলের ব্যবহার শুরু হয়।</p> <h3><strong>জ্বালানি হিসাবে ইথানল সম্পর্কিত কিছু তথ্য</strong><strong> </strong></h3> <p style="text-align: justify; ">১১৩ অক্টেন রেটিং নিয়ে ইথানল এখন বাজারে সবচেয়ে বেশি গুণমান সমৃদ্ধ জ্বালানি। এর ব্যবহারে আজকাল হাই কম্প্রেশন ইঞ্জিন অত্যন্ত মসৃণ ভাবে চলে।</p> <p style="text-align: justify; ">ইথানল অনুর মধ্যে অক্সিজেন রয়েছে, ফলে জ্বালানি সম্পূর্ণ ভাবে পুড়িয়ে দিতে তা সহায়ক। খুবই অল্প পরিমাণ ধোঁয়া নির্গমন হয়।</p> <p style="text-align: justify; ">ইথানল গাছ থেকে পাওয়া যায়। ফলে তাতে সৌরশক্তি নিহিত রয়েছে। তাই ইথানলকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি হিসাবে চিহ্নিত করা যায়।</p> <p style="text-align: justify; ">জ্বালানি ব্যবস্থাটিকে পরিষ্কার রাখে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি। জ্বালানি ব্যবস্থায় কোনও চটচটে আঠার মতো পদার্থ জমা হয় না। ফলে জ্বালানি পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা সম্ভব হয়।</p> <p style="text-align: justify; ">ইথানল শীতকালে গ্যাস লাইন অ্যান্টি ফ্রিজ হিসাবে কাজ করে। ফলে এই সময় জ্বালানি জমে যাওয়ার সঙ্কট থাকে না।</p> <h3><strong>ভারতে ইথানলের ব্যবহার</strong><strong> </strong></h3> <p style="text-align: justify; ">ভারতে ২০০৩ সাল থেকে গাড়ির জ্বালানি হিসাবে ইথানলের ব্যবহার শুরু হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক থেকে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, চিনি উৎপাদনকারী ৯টি মুখ্য রাজ্যে ও চারটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আবশ্যকীয় ভাবে গাড়ির জ্বালানির সঙ্গে ৫ শতাংশ ইথানল মেশাতে হবে। ২০০৪-৫ সালে ইথানল উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে ইথানলের আবশ্যকীয় ব্যবহারের ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে এই ছাড় ফের তুলে নেওয়া হয়। এ বার জ্বালানির সঙ্গে ইথানল মেশানোর পরিমাণ বাড়িয়ে দশ শতাংশ করা হয়।</p> <h3><strong>ইথানল নিয়ে নির্দেশিকা</strong><strong></strong></h3> <p style="text-align: justify; ">দেশের ভবিষ্যৎ কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা কার্বন উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের কথা ও বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমানোর কথা চিন্তা করে ২০০৮ সালে নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক জৈব জ্বালানি সংক্রান্ত জাতীয় নীতির কথা ঘোষণা করে। এতে বলা হয় অক্টোবর ২০০৮ থেকে পেট্রোলের সঙ্গে জৈব জ্বালানি হিসাবে ৫ শতাংশ বায়ো-ইথানল মেশাতে হবে। ২০১৭ সালে মেশানোর পরিমাণ ২০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়। ধাপে ধাপে কর্মসূচি রূপায়ণের লক্ষ্যে একটি পথ নির্দেশিকাও তৈরি করা হয়। ২০টি রাজ্য ও ৪টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তেল বিক্রির কোম্পানিগুলি এই কাজ শুরু করেছে। সরকার ইথানলের লিটার পিছু অন্তবর্তীকালীন দাম ঘোষণা করেছে ২৭ টাকা।</p> <h3><strong>জ্বালানি হিসাবে ভারতে ইথানল ব্যবাহারের চ্যালেঞ্জ</strong><strong></strong></h3> <ul style="text-align: justify; "> <li><span>এ দেশে বায়ো-ইথানল উৎপাদনের প্রধান সূত্র হল আখের গুড়। আখ উৎপাদন প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। চক্রাবর্তনে উৎপাদন হেরফের হলে ইথানল উৎপাদনের উপর তার প্রভাব পড়ে।</span></li> <li><span>ইথানলের অন্য ব্যবহারও রয়েছে, যেমন রাসায়নিক ও ফার্মাসিউটিকাল শিল্পে ব্যবহার। সুতরাং জ্বালানি হিসাবে এর ব্যবহার করতে হলে ওই ধরনের শিল্পের সঙ্গে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করতে হয়।</span></li> </ul> <p style="text-align: justify; "> </p> <p style="text-align: justify; "><strong>তথ্য সঙ্কলনঃ</strong> বাংলা বিকাশপিডিয়া</p>