শিশুর বৃদ্ধি একটা জটিল এবং ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এক একটা বয়সে শিশুর এক একটা কাজ করা উচিত। একে বলে বিকাশের স্তর। তবে বাবা-মার জানা উচিত, কোনও দুটো বাচ্চার বিকাশ সমগতিতে হয় না। তাই প্রতিবেশীর বাচ্চা কিছু করতে পারছে আর আমার বাচ্চা পারছে না, এটা ভাবা নিরর্থক। তার বদলে বয়স অনুযায়ী বাচ্চা কাজকর্ম করছে কিনা সে দিকে নিয়মিত নজর রাখা উচিত। কয়েক মাস পরেও যদি বাচ্চা বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক কাজ করতে না পারে তবে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো দরকার। এটাও মনে রাখা উচিত যে, বাচ্চা অন্য রকম ব্যবহার করছে তার কারণ হয়ত সে অসুস্থ বা কোনও কারণে বিপর্যস্ত। কখনও কখনও বাচ্চাটির বিকাশ, কোনও কোনও বিষয়ে, সম বয়সের অন্য বাচ্চাদের তুলনায় ধীরে হতে পারে, কিন্তু অন্য বিষয়ে হয়তো অন্য বাচ্চাদের থেকে অনেক আগে হতে পারে। বাচ্চা নিজে প্রস্তুত না হলে তাকে হাঁটতে শেখার জন্য জোর করলে কোনও উপকার হয় না। শিশুর বিকাশের লক্ষণ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বিলম্ব হচ্ছে কিনা তার দ্রুত পরীক্ষা ২ মাস- কথা বললে হাসি ৩ মাস- মাকে চিনতে পারা ৪ মাস- গলা জড়িয়ে ধরা, ঘুরে তাকানো ৫ মাস- কোনও জিনিসে কাছে গিয়ে তা ধরতে শেখা ৬ মাস- ‘মা’, ‘বা’ শব্দ বলা ৮ মাস– কোনও সাহায্য ছাড়া বসতে শেখা ৯ মাস- হামাগুড়ি দিতে শেখা ১২ মাস– দাঁড়াতে শেখা ১৩ মাস- কোনও সাহায্য নিয়ে হাঁটতে শেখা ২৪ মাস- সিঁড়ি দিয়ে ওঠা এবং ছোট ছোট বাক্য বলা ৩৬ মাস- তিন চাকার সাইকেল চড়তে শেখা ৪৮ মাস- হাত দিয়ে বল ছোঁড়া এবং সিঁড়ির একটা ধাপে একটা পা দিয়ে দিতে ওঠা ৭২ মাস- দেখে দেখে জটিল আকৃতি আঁকতে শেখা শিশুর বিকাশের স্তর জন্মের পর থেকে ছ’সপ্তাহ বাচ্চা মাথা এক দিকে ফিরিয়ে চিৎ হয়ে শোয় হঠাৎ আওয়াজে চমকে যায় বা শরীর স্থির হয়ে যায় হাতের মুঠো বন্ধ করে থাকে বাচ্চার হাতের তালুতে কিছু ছোঁয়ালে সেটা ধরার চেষ্টা করে ৬ থেকে ১২ সপ্তাহ নিজের মাথা স্থির করতে শেখা চোখের দৃষ্টি কোনও জিনিসের উপর স্থির করতে পারা ৩ মাস চিৎ হয়ে শুয়ে বাচা দুই হাত-পা সমান ভাবে নাড়ে। তার নড়াচড়া ঝাঁকুনি দিয়ে বা অসংবদ্ধ হয় না। কান্নার আওয়াজ ছাড়াও বাচ্চা মুখ দিয়ে নানা রকম আওয়াজ করে। বাচ্চা মাকে চিনতে পারে এবং তার গলার আওয়াজে সাড়া দেয় বাচ্চার হাত প্রায়শই খোলা থাকে যখন বাচ্চাকে সোজা করে তোলা হয় সে বেশ কিছুক্ষণ মাথা সোজা রাখতে পারে ৬ মাস বাচ্চা দু’হাত জড়ো করে খেলে আশেপাশে শব্দ শুনলে মাথা ঘোরায় চিৎ থেকে উপুড় বা উপুড় থেকে চিৎ হতে পারে ঠেকা দিয়ে অল্প সময়ের জন্য বসতে পারে বাচ্চাকে উঁচু করে ধরলে পায়ে কিছু ভার নিতে পারে উপুড় হয়ে শুয়ে হাত-পা ছড়িয়ে নিজের শরীরের ভার নিতে পারে ৯ মাস বাচ্চা ঠেকা ছাড়া কিছু না ধরে বসতে পারে হাঁটু এবং হাতের উপর ভর করে হামাগুড়ি দিতে পারে ১২ মাস বাচ্চা ঠেলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ‘মামা’ বলতে শুরু করে আসবাবপত্র ধরে বাচ্চা হাঁটতে পারে ১৮ মাস সাহায্য ছাড়াই বাচ্চা একটা গ্লাস ধরতে পারে এবং না ছলকে তার থেকে জল পান করতে পারে। বড় ঘরে বাচ্চা টলমল না করে বা না পড়ে গিয়ে সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারে দু-একটা শব্দ বলতে পারে। নিজে খেতে পারে ২ বছর বাচ্চা পাজামা ধরনের কিছু জামাকাপড় খুলে ফেলতে পারে না পড়ে গিয়ে দৌড়তে পারে ছবির বইয়ের ছবিতে বাচ্চা আনন্দিত হয় বাচ্চা কী চায় বলতে পারে অন্যদের বলা কথা বাচ্চা নকল করতে শুরু করে বাচ্চা তার শরীরের কিছু কিছু অংশ চেনাতে পারে ৩ বছর বাচ্চা হাত তুলে কাঁধের উপর থেকে বল ছুঁড়তে পারে (পাশের বা নীচের দিকে নয়) বাচ্চাটি সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, যেমন “তুমি ছেলে না মেয়ে?” বাচ্চা কোনও জিনিস সরিয়ে রাখতে সাহায্য করে অন্তত একটা রঙের নাম বলতে পারে ৪ বছর বাচ্চা ট্রাইসাইকেল প্যাডেল করতে পারে বইয়ে বা ম্যাগাজিনে ছবির নাম বলতে পারে ৫ বছর বাচ্চা তার জামাকাপড়ের বোতাম লাগাতে পারে অন্তত তিনটি রঙের নাম বলতে পারে পা বদল করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারে পা ফাঁক করে লাফাতে পারে শিশুর বিকাশে বিলম্ব আলোচিত বিকাশের স্তরগুলির মধ্যে কয়েকটি যদি শিশুর মধ্যে প্রকাশ না পায়, তবে শিশু বিকাশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা যেতে পারে। সাধারণ ভাবে এই দক্ষতাগুলির মধ্যে ২৫ শতাংশ না দেখা গেলে শিশুর বিকাশে বিলম্ব হচ্ছে বলা যেতে পারে। Source: এনডিটিভি