প্রতিষেধক বর্তমানে আমাদের দেশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধের জন্য তিন ধরনের ভ্যাকসিন পাওয়া যায় নার্ভ- টিস্যু ভ্যাকসিন (NTV)- প্রতি দিন একটি করে পেটের চামড়ার নীচে মোট ১৪টি ইঞ্জেকশন নিতে হয়। সব সরকারি হাসপাতালে এ ভ্যাকসিন বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। তবে এ ভ্যাকসিন গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নিরাপদ নয়। হিউম্যান ডিপ্লয়েড সেল ভ্যাকসিন (HDCV) - নির্দিষ্ট দিনের ব্যবধানে হাতে মোট ছয়টি ইঞ্জেকশন নিতে হয়। পিউরিফায়েড চিক - এমব্রায়ো সেল ভ্যাকসিন (PCECV) - হাতে ছয়টি ইঞ্জেকশন নিতে হয়। সাবধানতা ভ্যাকসিন চলাকালে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাদ্য, উত্তেজক পানীয় না খাওয়া, অতিরিক্ত পরিশ্রম না করা, রাত না জাগা, স্টেরয়েড বা অন্য ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ না করা, গর্ভবতী মায়েদের বিশ্রাম নেওয়া ইত্যাদি মেনে চলা উচিত। ভ্যাকসিন চলাকালে যেন জ্বর না হয়, সর্দি-কাশি না থাকে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। না জেনে জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছাগল ও গরুর অসিদ্ধ মাংস বা না ফোটানো দুধ (নৈবেদ্য) খেলে ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগীর এঁটো খাবার খেয়ে ফেললে বা রোগীর লালা শরীরের কোনও ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে এলে ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। তন্ত্রমন্ত্র, ঝাড়-ফুঁক, তুকতাক, তাবিজ-কবচের বিশ্বাসে আচ্ছন্ন রয়েছে অনেক মানুষ। বাহুতে লাল-কালো সুতোয় হাফ ডজন শিকড়-তাবিজ বাঁধা গণ্যমান্য ব্যক্তির সংখ্যা নেহাত কম নয় এ দেশে। অন্যান্য রোগের মতো কুকুরে কামড়ানোর ক্ষেত্রেও নুন পড়া, বাতাস পড়া, তেল পড়া, পানি পড়া, গুড় পড়া, পিঠে থালা বসানো এ রকম অজস্র আজগুবি পদ্ধতিতে চিকিৎসা করেন ওঝা গুনিনরা। এর সাথে আছে বিচিত্র সব মন্ত্র। সোজা কথা, মৃত্যুকে যদি আলিঙ্গন না করতে চান তবে ওই সব বুজরুকির আশ্রয় নেবেন না, অন্যকে নিতে দেবেন না। সূত্র : দি হিন্দু, স্বাস্থ্য তথ্য ও অন্যান্য ওয়েব সাইট