খাদ্যই আমাদের অধিকাংশ সময় ওষুধের মতো কাজ করে। খাদ্যই আবার রোগের সৃষ্টি করে। আমাদের অনেকেই এটা খেয়াল করি না অথবা জানা না থাকায় বিব্রত হতে হয়। কোন রোগে কোন খাদ্য খাওয়া নিষেধ এবং কোন খাদ্য খেলে রোগ নিরাময় করতে সাহায্য করে জানা থাকলে অধিকাংশ সময় আমরা ওষুধ খাওয়ার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারি। আজকাল নানা রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। কত ওষুধ খাব। ওষুধের আবার বিপরীত প্রতিক্রিয়া হলে তখন আর এক বিপত্তি। নিত্য যে খাদ্য খাই তার কোনগুলি রোগের পক্ষে উপকারী, কোনগুলি অপকারী জানা থাকলে আর অসুবিধায় পড়তে হয় না। তাই ওষুধ খাওয়ার মতো এরও একটা ভূমিকা আছে। তাই খাদ্যকে ফুড মেডিসিন আখ্যা দিলে অত্যুক্তি হয় না। কোন রোগে কোন খাদ্য উপকারী বা অপকারী তা উল্লেখ করা হল। বাত বা ব্যথা --- মাটির নীচের নানা ধরনের সবজি যেমন আলু, মূলো, গাজর, কচু, বিট অথবা পিচ্ছিল বা স্লিপারি জাতীয় খাদ্য যেমন পুঁইশাক, ঢ্যাঁড়শ, মাসকলাই বা বিউলির ডাল, অধিক প্রোটিনযুক্ত মসুর ডাল এবং মাংস ব্যথা বাড়াতে সাহায্য করে। সর্দিকাশি, ঠান্ডা লাগার ধাত থাকলে ভিটামিন সি বা সাইট্রাস খুব উপকারী। যথা পাতিলেবু, কমলালেবু, মুসাম্বিলেবু, বাতাবি লেবু, আনারস, আমলকি ইত্যাদি ভিটামিনে ভরপুর, বিশেষ উপকারী। স্নায়বিক দুর্বলতা ক্লান্তিতে ভিটামিন বি, হলদে জাতীয় খাবার বিশেষ উপকারী। যেমন অঙ্কুরিত ছোলা, ছাতু ইত্যাদি ফলপ্রসূ। চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এ ভিটামিন, লাল রঙের খাদ্য যেমন তরমুজ, লালশাক, বিট, গাজর, টমেটো ইত্যাদি খুব উপকার করে। গ্যাস অম্বল রোধের জন্য চিনি, মিষ্টি কম খাওয়া উচিত। শেষ পাতে ফল খাওয়া আবশ্যক। ফল অ্যালকালি মিডিয়া। অ্যাসিড বা অম্বলকে নিউট্রিলাইজ করতে সাহায্য করে। দুধ, ছানা, দই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য। হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। নখ, দাঁত প্রভৃতি ক্ষয় রোধ করে। ডুমুর, মোচা, থোড়, এপ্রিকট (খোবালি), কুলেখাড়া পাতার রস রক্ত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অ্যানিমিয়া রোগ দূর করে। শুষনি শাকের রস অনিদ্রায় উপকারী। নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট ঋতুতে যে সবজি ও ফল পাওয়া যায় তা প্রকৃতির দান। নিয়ম মেনে খেলে ওষুধ খাবার দরকার হয় না। সূত্র : যোগসন্দর্শন, ডা. দিব্যসুন্দর দাস