<p style="text-align: left;">শরীরের হাইড্রেশনের পরিমান ঠিক রাখতে সাহায্য করে জল। শরীরে জলের পরিমাণ ঠিক থাকলে ক্ষতিকর টক্সিন শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিশেষ করে গরমের সময় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেকটা জল অপ্রত্যাশিত ভাবেই বেরিয়ে যায়। সঙ্গে প্রতিনিয়ত মূত্রের মাধ্যমেও শরীর থেকে জল বেরোয়। স্বাভাবিকভাবে ৮-১০ গ্লাস জল প্রতিদিন খাওয়া উচিত। যদিও সেটা মানুষের কাজ, জীবনশৈলী এবং শরীরের গঠনের সাথে সাথে কিছুটা হেরফের হয়। কিন্তু শরীরে যদি জলের পরিমাণ কম হয় তাহলে অনেক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন, মুখের শুষ্কভাব, মাথা ব্যথা, শুষ্ক চামরা, মাথা ঘোরা, এনার্জির অভাব দেখা দিতে পারে।</p> <p style="text-align: left;">সাধারণত দেখা যায় ঠাণ্ডার কারনে শীতকালে এবং বসন্ত ঋতুতে জল পান করার প্রবণতা আমাদের কমে যায়। কিন্তু বসন্তের সময়েই ঋতু পরিবর্তন হচ্ছে। আর এই সময়েই বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা যায়। গরমকালে যে পরিমাণ জল আমরা সাধারণত পান করে থাকি শীতকালে তার পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। ঠাণ্ডার মধ্যে যেই মাত্র লেপ বা কম্বলের তলায় গেলেন এমনিতেই দেখলেন টয়লেটে যাওয়ার টান। ব্যাস এক নিমেষেই সব আরাম ঘেঁটে ঘ হয়ে গেলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে অনেক কারন। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময়ে আমাদের শরীরের মধ্যে নানাহ পরিবর্তন দেখা যায়। এই কারনেই এমনটা হয়। কথায় আছে মানুষ প্রকৃতির দাস। আর এই কোভিড অতিমহামারি কালে আমাদের আজকের এই সুজলাং সুফলাং পৃথিবী কিন্তু আবারও জানান দিয়ে গেলো, প্রকৃতিই আমাদের একমাত্র বাঁচাতে পারে এই কোভিড কালেও। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়ুর্বেদ, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি এবং ভেষজ চিকিৎসার উপর বিশ্বাস রাখতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ মন্ত্রকের’ নিদান, প্রকৃতিই আমাদের এই মহামারী থেকে নিষ্কৃতি দিতে পারে। তাই আয়ুষ মন্ত্রকের নিদান সকালটা শুরু হোক গোল্ডেন ওয়াটার অর্থাৎ কাঁচা হলুদ সেদ্ধ জল দিয়ে।</p> <p style="text-align: left;">চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলির রক্ষা করতে রক্তনালীর সংকোচন ঘটে। রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতেই এমনটা ঘটে। ফলে দেহের অন্যান্য অঙ্গের মতো কিডনিতেও রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই পদ্ধতিটিকে বলা হয় ‘ভ্যাসোকন্সট্রিকশান’। ফলে কিডনিকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশী কাজ করতে হয়। আর এই কারনেই মূত্রের পরিমাণ বা টয়লেটের ডাক বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের কথায়, বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণ হতে পারে। যখন শরীরের উৎপাদিত তাপ শরীর থেকে বেড়িয়ে যাওয়া তাপের চেয়ে কম হয় তখন শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কমে যেতে থাকে। একেই ‘হাইপোথার্মিয়া’ বলে। এই অসুস্থতায় আক্রান্ত<br />হলে বারবার প্রস্রাবের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কম্পন, শ্বাসের সমস্যা, দুর্বল হৃদস্পন্দন ইত্যাদির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। আবার যাদের ব্লাড সুগারের সমস্যা থাকে, তাদের ক্ষেত্রেও এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। তবে এসব সমস্যা ছাড়াও যদি বারবার টয়লেটে ছুটতে হয় তাহলেও দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। এটা একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে ভুলেও বারবার প্রস্রাব পাচ্ছে বলে বা টয়লেটে যেতে হয় বলে, জল কম খাওয়া উচিৎ নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালে এবং বসন্তকালে জল খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে। কারন এই শুষ্ক আবহাওয়ায় জলপানই শরীরকে তরতাজা রাখতে সাহায্য করবে। তাই গোল্ডেন ওয়াটার দিয়ে শুরু করুন সকালটা। দেখবেন অনেক রোগশোক থেকে মুক্ত আপনি। তাই যদি সুস্থ থাকতে চান, তাহলে সকালে খালি পেটে জল পান করুন প্রতিদিন।</p> <p style="text-align: left;">আপনি কি জানেন সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে জল পান করার অভ্যেস জাপানীদের মধ্যে খুব বেশী দেখা যায়! চিকিৎসকেরাও কিন্তু খালি পেটে জল পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সারা রাত ঘুমের পর আমাদের শরীর এমনিতেই শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই জল পান করলে শরীর তাঁর কার্যক্ষমতা চালিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় জল পায়। এছাড়াও সকালে খালি পেটে ১ গ্লাস জল খেলে ত্বক ভালো থাকে, গ্যাসের সমস্যা কম হয়, মাথাব্যথা থেকে মুক্তি মেলে। চলুন দেখে নেই সকালে ঘুম থেকে উঠে কেন পান করবেন পুরো ১ গ্লাস জল।</p> <p style="text-align: left;">ঘুম ভাঙার পরেই ১ গ্লাস জল পান করুন। তারপর দাঁত মাজা ও বাথরুমের কাজ সারুন। একটু হাঁটাচলা করুন খোলামেলা কোনও জায়গায়। তারপর ৪৫-৫০ মিনিট পর সকালের জলখাবার খান। খালি পেটে ভুলেও কিন্তু চা খাবেন না।</p> <ol style="text-align: left;"> <li>রোজ খালি পেটে এক গ্লাস করে জল খেলে মলাশয় পরিষ্কার হয় এবং শরীর সহজেই নতুন করে খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।</li> <li>অনেকেই আছেন যাঁরা অভিযোগ করেন ঘুম থেকে উঠেই তাঁদের মাথাব্যথা করে। শরীরে জ‌লের মাত্রা কমে যাওয়ায় এমন হয়। সারা রাত শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে জল যায় না। তাই সকালে উঠে যদি খালি পেটে জলপান করা যায় তবে মাথার যন্ত্রণা অনেকটা দূর হবে। এবং ধীরে ধীরে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।</li> <li>যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তারা অবশ্যই প্রতিদিন সকালে উঠে জল পানের অভ্যাস তৈরি করুন। কারণ যত বেশি জল পান করবেন, তত হজম ভালো হবে এবং শরীরে বাড়তি ফ্যাট জমবে না।</li> <li>কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনির সমস্যা ও ব্রণর সমস্যা কমিয়ে ফেলা যায় জল পান করেই।</li> <li>ডিম, মাছ, মাংস, শসা, লেটুসের মধ্যেও জল রয়েছে। যা শরীরে ফ্লুইডের (Fluid) ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।</li> <li>তৃষ্ণা পেলেই জল পান করুণ। তাতেই শরীরে জলের ভারসাম্য রক্ষা হবে।</li> <li>গর্ভাবস্থায় মহিলাদের আরও বেশি করে জল খেতে হয় যাতে বমি আর ডিহাইড্রেশন না হয়।</li> </ol> <p style="text-align: left;">শুধু শীতকালে নয়, গরমেও পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপান করাটা খুব জরুরী। গরমের সময়ে তেতে থাকে শহরের রাস্তা থেকে গ্রামের মাটির ঘর। যদিও সূর্য অস্ত গেলেই ঠান্ডা হয়ে যায় গ্রামের পরিবেশ। কারণ সেখানে প্রচুর গাছপালা থাকে। তাই গরমের সঙ্গে লড়াই করার জন্য মানুষ খুব সহজেই রসদ পেয়ে যায়। কিন্তু কী করবেন শহুরে মানুষরা? তাঁদের তো আর উপায় নেই। এই গরমে পুড়ে, ঘামে ভিজেই সারাদিন খাটতে হবে। ভাবছেন যাঁরা এসিতে বসে কাজ করেন, তাঁদের আর কি চিন্তা? চিন্তাটা তাঁদের আরও একটু বেশি। গরম থেকে দুম করে এসিতে ঢুকে পড়াটা শরীরের জন্য আরও ক্ষতিকর। কিন্তু গরম থেকে নিজেকে সুস্থ রাখতে আপনার সব থেকে বড় সম্বল জল পান।</p> <p style="text-align: left;"><strong>এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, শরীরকে সুস্থ রাখতে ঠিক কতটা জল পান করা প্রয়োজন।</strong></p> <p style="text-align: left;">সাধারণত, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৩ লিটার করে জল খাওয়া উচিত।</p> <ul style="text-align: left;"> <li> পুরুষদের মাংসপেশী যেভাবে তৈরি সেজন্যে মহিলাদের থেকে একটু বেশি জল খাওয়া প্রয়োজন।</li> <li> মহিলাদের আড়াই লিটার থেকে তিন লিটার পর্যন্ত জল খাওয়া প্রয়োজন।</li> </ul> <p style="text-align: left;">কী ভাবে জল পান করবেন, সেটা জানাও কিন্তু খুব জরুরি। একসঙ্গে অনেকটা জল খেয়ে ফেললেন তাতে কিন্তু শরীরেরই ক্ষতি হয়। ৫০০ এমএল জল শরীরের বিপাকক্রিয়াকে ৩০% ঠিক রাখে। বারেবারে জল খান। এর পাশাপাশি জল সংরক্ষণের বিষয়েও আপনি নিজে সচেতন হন এবং পাশের বন্ধুটিকে সচেতন করুন। জলের অপচয় বন্ধ করতে উদ্যোগ নিন এবং সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন। মনে রাখা দরকার আগামী দিনে জলই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।</p> <p style="text-align: left;"> </p> <p style="text-align: left;"><strong>লেখকঃ রাজীব দত্ত (প্রাবন্ধিক)</strong></p> <p style="text-align: left;"><em><strong>তথ্য সুত্রঃ</strong> বিভিন্ন চিকিৎসক এবং এক্সপার্টদের সাথে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে লেখা। </em></p>