পৃথিবীর প্রায় সব কল্যাণকামী রাষ্ট্র তার নাগরিকদের, সুস্থ, স্বাস্থ্যজ্জ্বল ও সুন্দর রাখতে জনস্বাস্থ্যের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। আর বলাই বাহুল্য যে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম যে দু’টি ক্ষেত্র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা হল, জনগণকে সুপেয় জল সরবরাহ করা এবং একই সঙ্গে নির্মলীকরণের যথাযোগ্য সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একটি সমীক্ষায় প্রকাশ যে, পৃথিবীর প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি শিশু মৃত্যুর কারণ হল ডায়েরিয়া। দেখা গেছে যে, পৃথিবীর উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলিতে হাসপাতালে ভর্তি অর্ধেক রোগীর ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া, চোখ ও চামড়ার প্রদাহ ও সংক্রমণ, ম্যালেরিয়া, কলেরা বা টাইফয়েড -- এই সকল রোগের কারণে চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই সমস্ত রোগগুলির মূলে রয়েছে অশুদ্ধ ও অপেয় জলের ব্যবহার ও নির্মলীকরণের যথাযথ সুব্যবস্থার অভাব। এখন দেখা যাক, নির্মলীকরণ বলতে কোন কোন বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে আন্তজার্তিক একটি সংস্থার নির্দেশিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নির্মলীকরণ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। (ক) মানবদেহে মলমূত্র ইত্যাদির নিরাপদ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকরণের শেষে তা বর্জ্য হিসেবে নির্মোচন। (খ) আবর্জনাদি পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ। (গ) গৃহস্থালির নোংরা জলের যথাযথ নিষ্ক্রমণের ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষেত্র বিশেষে তা পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। (ঘ) বন্যা ইত্যাদি কারণে জমা জলের যথোপযুক্ত নিষ্ক্রমণ ব্যবস্থা গ্রহণ। (ঙ) ভূগর্ভস্থ নর্দমার ময়লার উপযুক্ত সাফাই ও তার প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করণ। (চ) শিল্পজাত বর্জ্যের সংগ্রহ ও তার যথোপযুক্ত প্রক্রিয়াকরণ। এবং (ছ) মানবশরীরের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু পদার্থ, যেমন, হাসপাতালের বর্জ্য বা বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের নিয়ন্ত্রণে যথাযোগ্য ব্যবস্থাপনাকরণ। এর মাধ্যমে নির্মলীকরণ সম্পূর্ণ করা যায়। এ ব্যাপারে সরকার ও অসরকারি সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে আগামী দিনে দেশের সচেতন নাগরিক সে দিকেই দৃষ্টি দেবেন। সচেতনতার মাধ্যমে নির্মলীকরণের অনেক অধরা দিকগুলিও ভবিষ্যতে সামনের সারিতে চলে আসতে পারে। সুত্রঃ যোজনা জানুয়ারী ২০১৫