কুষ্ঠ রোগ হলে সাধারণত যে সব লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয়: টিউবারকিউলয়েড কুষ্ঠ : শরীরের ত্বকে লালচে দাগের পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় মসৃণ সাদাটে দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত স্থান অসাড় হয়ে যায়। সেই জায়গায় কোনও অনুভূতি থাকে না। লেপরোমেটাস কুষ্ঠ : শরীরের ত্বকে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পিণ্ড অথবা অনেকখানি স্থান জুড়ে বিভিন্ন আকারের লালচে দাগ দেখা যায়। শরীরের বেশির ভাগ স্থান অসাড় হয়ে যায়, সেখানে কোনও অনুভূতি থাকে না এবং মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। ত্বকের বেশির ভাগ অংশ এবং শরীরের বেশির ভাগ অঙ্গ যেমন কিডনি, নাক, অণ্ডকোষ আক্রান্ত হতে পারে। বর্ডারলাইন কুষ্ঠ : এ ক্ষেত্রে টিউবারকিউলয়েড কুষ্ঠ এবং লেপ্রোমেটাস কুষ্ঠের বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকে। চিকিৎসা না করানো হলে এটি অনেকটা টিউবারকিউলয়েড কুষ্ঠের মতো বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। যদি আরও খারাপ আকার ধারণ করে তা হলে লেপ্রোমেটাস কুষ্ঠের মতো হতে পারে। অন্যান্য উপসর্গ স্পর্শ, ব্যথা ও তাপমাত্রার অনুভূতি হ্রাস পায় যাদের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা মনের অজান্তেই নিজের ক্ষতি করতে পারে যেমন: শরীরের কোনও জায়গায় পুড়ে যেতে পারে, কাটা অথবা অন্য ভাবে বার বার ক্ষয়ের ফলে হাত ও পায়ের আঙুল হারাতে হতে পারে। ত্বকের যে সব স্থান সংক্রামিত হয় সে সব জায়গায় পিণ্ড দেখা যায় বা ফুলে যায় । কখন ডাক্তার দেখাবেন উপরোক্ত লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। কী ধরনার পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে কুষ্ঠ রোগের উপসর্গ দেখেই ডাক্তার বুঝতে পারেন যে কুষ্ঠ হয়েছে। তবে রোগ নিশ্চিত করার জন্য নীচের পরীক্ষাগুলো করানো হয় : আক্রান্ত স্থানের ত্বকের কলা পরীক্ষা রক্তের পরীক্ষা কী ধরনের চিকিৎসা আছে রোগের ধরন, মাত্রা এবং রোগীর বয়সের উপর কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে: দীর্ঘ সময়ব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ড্যাপসোন দিয়ে জীবনব্যাপী চিকিৎসা কী ভাবে কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ করা যায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে নিঃসৃত তরল এবং তাদের ত্বকের যে ফুসকুড়ি তার সংস্পর্শে আসা যাবে না বিসিজি টিকা নেওয়ার মাধ্যমে কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। তবে এটা অতটা প্রচলিত নয়। তথ্যসূত্র : http://infokosh.plandiv.gov.bd/atricle/কুষ্ঠ-রোগ