চক্ষু পরীক্ষা সর্ব প্রথম দরকার অসুখটি সম্পর্কে সচেতনতা। দ্বিতীয়ত দরকার সামগ্রিক ভাবে বিশেষজ্ঞ চক্ষু-চিকিত্সক দ্বারা চক্ষুপরীক্ষা। সামগ্রিক চক্ষু পরীক্ষা বলতে বোঝায় : ১) স্লিট ল্যাম্প পরীক্ষা ২) চোখের প্রেসার মাপা ৩) গোনিওস্কোপি পরীক্ষা ৪) অপটিক নার্ভের পরিস্থিতি বুঝতে অপথ্যালমোস্কোপি পরীক্ষা ৫) অবশ্যই পেরিমেট্রি বা ভিস্যুয়াল ফিল্ড টেস্ট করানো। পেরিমেট্রি টেস্ট জানান দেবে আপনার দৃষ্টিশক্তির প্রান্তিকতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বা আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা। এই পাঁচটি পরীক্ষাই কিন্তু অপরিহার্য। আর পেরিমেট্রি পরীক্ষা না হলে আপনি যে তিমিরে ছিলেন, সেই তিমিরেই থাকবেন। রোগ নির্ণয়ও সঠিক হবে না। বয়স হলেই চোখ পরীক্ষা করান যাঁদের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি, তাঁদের প্রতি বছরই গ্লকোমা পরীক্ষা করাতে হবে। ৪০-৬৪ বছর বয়সিরা দেখাবেন প্রতি দু’ বছর পর পর ৩০-৩৯ বছর বয়সিরা দেখাবেন প্রতি দু’ থেকে চার বছরে ২০-২৯ বছর বয়সিরা দেখাবেন প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছরে চোখের প্রেসার যাঁদের বেশি বা যাঁরা উপরের তালিকায় পড়েন, তাঁরা অবশ্যই গ্লকোমার পরীক্ষা করাবেন। এ ছাড়া যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড ওষুধ ব্যবহার করছেন তাঁরাও উপরিলিখিত তালিকার অন্তর্ভুক্ত। কোন কোন ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা করানো উচিত যাঁদের চোখে কোনও আঘাত লেগেছিল যাঁদের মধুমেহ বা ডায়াবিটিস রোগ আছে যাঁরা মাইনাস পাওয়ারের চশমা পরেন যাঁদের পরিবারে ইতিমধ্যেই কেউ গ্লকোমায় আক্রান্ত হয়েছেন যাঁদের বয়স ৪০ বছরের উপর চিকিৎসা প্রাথমিক পর্বে রোগটি নির্ধারণ করা গেলে নির্দিষ্ট আইড্রপ বা চোখের ওষুধের সাহায্যে গ্লকোমাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। গ্লকোমার দরুণ চোখের স্নায়ু বা অপটিক নার্ভের ক্ষতির পরিমাণ কতটা, সেই বুঝে অনেক ক্ষেত্রে দু’টি বা তিনটি চোখের ওষুধেরও দরকার লাগতে পারে। সারা জীবনই আপনাকে ওষুধগুলি ব্যবহার করে যেতে হবে। গ্লকোমা চিকিত্সার আর এক উপায় লেজার সার্জারি। চিকিত্সায় সুফল আনতে ও তাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে কখনও কখনও লেজার সার্জারি এবং আই ড্রপ দুইয়েরই প্রয়োগ করতে হয়। চোখে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। আপনার চক্ষুচিকিত্সক আপনাকে সাহায্য করবেন আপনার পক্ষে কোন পদ্ধতিটি উপযোগী ও কার্যকর, তা বুঝতে৷ সূত্র : ডা: টুটুল চক্রবর্তী, এই সময়, ১৩-৩-১৫, http://bengali.cri.cn