অল্পস্বল্প, দু-চার দিনের কি সপ্তাহখানেকের কাশি তবু ঠিক আছে। এর বেশি হলে ডাক্তার দেখান। কারণ দীর্ঘস্থায়ী কাশি অনেক সময়ই বিপদের পূর্বাভাস বয়ে আনে। অসংখ্য কারণে হতে পারে। ঠান্ডা লাগা থেকে হৃদরোগে। ধূমপান থেকে হাঁপানিতে। সঙ্গে অন্য যে উপসর্গ আছে তার সঙ্গে মিলিয়ে কারণ খুঁজতে হয়। যেমন — দু-চারদিনের কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা --- গলা বা বুকের সাধারণ বা মাঝারি সংক্রমণ। কাশির সঙ্গে বারবার হাঁচি --- অ্যালার্জি। ঠান্ডা লাগা থেকে শুরু করে ধুলো, ধোঁয়া বা ফুলের রেণু থেকে অ্যালার্জি হওয়া সম্ভব। কাশিতে রক্তের ছিটে --- ফুসফুসের যক্ষ্মা, টিউমার, ক্যান্সার, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস নামে ফুসফুসের অসুখ, কিছু হার্টের অসুখ যেমন ভি এস ডি বা মাইট্রাল স্টেনোসিস হতে পারে। কাশি সঙ্গে অল্প বিস্তর হাঁপের টান --- ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, ক্রনিক হার্টেফেলিওর বা হাঁপানি থেকে হতে পারে। কাশি, সর্দি, গলাজ্বালা, মাথাব্যথা --- ক্রনিক সাইনোসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কাশি, গলা ব্যথা, ঢোক গিলতে কষ্ট --- ফ্যারিনজাইটিস বা টনসিলাইটিস হতে পারে। লাগাতার খুসখুসে কাশি, কখনও ভোরে কখনও মাঝরাতে, কখনও বা দিনভর --- নানা কারণে হতে পার — অম্বল, পেটে কৃমি, গলব্লাডারের সমস্যা বা ট্রপিকাল ইওসিনোফিলিয়া। হলুদ রঙের ঠান্ডা পানীয় খাওয়া। ধোঁয়া ধুলোয় বহুক্ষণ কাজ করতে হলে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান। ব্যথা কমার ওষুধ খেলে হাঁপানি রোগীর কাশি হতে পারে। নস্যি, জর্দা পানপরাগ জাতীয় কোনও নেশা থেকে। মশার ধূপপ এমনকী রান্নার গ্যাস থেকেও কাশি হতে পারে। নিয়মিত এ সি ই ইনহিবিটর গোত্রের ওষুধ খেলে কাশি হতে পারে। কানে খোল জমলে। বাচ্চা ক্রমাগত কাশতে থাকলে দু’টি জিনিস খেয়াল করুন — হাঁপানি হয়েছে কি না বা কোনও ফরেন বডি শ্বাসনালীতে ঢুকে রয়েছে নাকি। রাত্রের দিকে বেশি কাশি হলে, বিশেষত বাচ্চাদের, নাক বন্ধ হয়ে গেছে কি না দেখুন।