এলাইজা টেস্ট ফর এইচ আই ভি পজিটিভ এলে ওয়েস্টার্ন ব্লট টেস্ট করা হয়। এই টেস্ট পজিটিভ মানে রোগ হয়েছে। পরের ধাপে বুকের এক্সরে, লিভার ফাংশন টেস্ট, স্টুল পরীক্ষা ইত্যাদি করতে হতে পারে। রোগ প্রমাণ হলে রক্তদান এবং যৌন সম্পর্ক বন্ধ। চিকিত্সায় রোগ কিছুটা কমলে ‘সেফ সেক্স’ করা যেতে পারে। পার্টনার রোগাক্রান্ত হলে অবশ্য আগেও করা যায়। পুষ্টিকর খাবার, ঘুম এবং বিশ্রাম জরুরি। জরুরি যথাসম্ভব টেনশন মুক্ত থাকা। দাঁত, মাড়ি এবং মুখের যত্ন নিতে দিনে দু-তিন বার ব্রাশ করবেন। খাওয়ার পর ভালো করে মুখ পরিষ্কার করবেন। দরকার হলে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। চিকিত্সার প্রথম ধাপ রোগের গতিপ্রকৃতি এবং ওষুধের প্রতিক্রিয়া রোগীকে জানানো। অবসাদ কমানোর চেষ্টা করা। আজকাল প্রচুর ওষুধ বেরিয়েছে। ঠিক ভাবে চিকিত্সা হলে রেসাল্ট বেশ ভাল। তবে সারা জীবন ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। ওষুধ শুরু করার আগে সিডি – ৪ কাউন্ট করে দেখতে হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন আছে। ওষুধ দিয়ে কতটা উন্নতি সম্ভব। এর পর দেখা হয় এইচ আই ভি — আর এন এ ভাইরাল লোড। অর্থাত শরীর কী পরিমাণ ভাইরাস আছে। ৩-৬ মাস বাদে বাদে চেক আপ করে দেখা হয় কতটা উন্নতি হচ্ছে। ভাইরাল লোড এবং সংক্রমণ কমছে কি না। ওষুধের কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে সব সময় গর্ভপাত করাতে হয় না। মাকে ওষুধ খাইয়ে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বাচ্চা জন্মানোর পর তাকেও ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। চিকিত্সার খরচ আজকাল কম। চিকিত্সা চলাকালীন কয়েকটি জিনিস খেয়াল রাখা দরকার। যেমন — রোগীর রক্ত কমে যাচ্ছে কি না লিভার ঠিকঠাক কাজ করছে কি না নার্ভ শুকিয়ে যাচ্ছে না কি গায়ে র্যাশ বেরোচ্ছে কি না ইত্যাদি। তথ্য : ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায়