সমস্যা দেখা দেওয়া মাত্র চোখের ডাক্তার দেখান। কারণ যত তাড়াতাড়ি চিকিত্সা শুরু হবে তত তাড়াতাড়ি সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাবেন। বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিস বা রক্তচাপ বেশি, জ্বর বা বড় অসুখ থেকে ওঠার পর ট্যারা চোখের মণি একদম নাড়াতে না পারলে এবং সব কিছুকে যদি দু’টো করে দেখতে থাকেন, বিপদের লক্ষণ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চোখের ডাক্তার দেখান। চোখের জন্য কিছু ওষুধপত্র এবং অন্য যে অসুখটির জন্য সমস্যা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে তার চিকিত্সা হলে ৩ – ৬ মাসের মধ্যে অবস্থা আয়ত্তে আসবে। ল্যাটেন্ট স্কুইন্টে চোখের ব্যায়াম এবং চোখ পরীক্ষা করে সঠিক পাওয়ারের চশমা দিলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যা মিটে যায়। এই ব্যায়ামগুলিকে বলে কনভারজেন্ট এক্সারসাইজ। দু-একটা উদাহরণ দিচ্ছি। পেন বা পেন্সিলের টিপ বাচ্চার নাক বরাবর এক মিটার মতো দূরত্বে সোজা করে ধরুন। খুব ধীরে টিপকে নাকের দিকে এগিয়ে আনুন। বাচ্চাকে বলুন দু’ চোখের দৃষ্টি ওই বিন্দুতে স্থির রাখতে। ১০ – ১২ বার করে দিনে ৩ – ৪টে সিটিং-এর প্রয়োজন হতে পারে। দূরবিনের মতো দেখতে একটি যন্ত্র কিনতে পাওয়া যায়। যার দু’ দিকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত দু’টি আলাদা ছবি থাকে। ধরা যাক একটি খাঁচা ও একটি পাখি। বাচ্চাকে বলুন যন্ত্রটিকে ঘুরিয়ে খাঁচার মধ্যে পাখিটিকে নিয়ে আসতে। এই ব্যায়ামও দিনে তিন বার করে করতে হয়। এক একটি সিটিং-এ ১০ – ১২ বার করে। এ রকম আরও দু-একটি ব্যায়াম বাড়িতে করা যেতে পারে। ব্যায়াম এবং চশমা, কিছু ক্ষেত্রে শুধু চশমায় কাজ না হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করিয়ে নিন। ছোট বয়সে অপারেশন করালে চোখের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে আসে। তথ্য : ডাঃ জ্যোতির্ময় দত্ত