গোড়ালি থেকে হাঁটু পর্যন্ত পায়ে রয়েছে টিবিয়া এবং ফিবুলা নামে দু’টি হাড়। মারাত্মক চোটে কখনও দু’টোই ভাঙে, কখনও একটি। কখনও বা হাড়ের সঙ্গে জখম হয় চামড়া এবং মাংসও। এর নাম ওপেন ফ্র্যাকচার। শুধু হাড় ভাঙলে তাকে বলে ক্লোজড ফ্র্যাকচার। ওপেন ফ্র্যাকচার এমারজেন্সি। খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে নিয়ে যান। ক্ষতস্থানে স্টেরাইল গজ এবং নীচে প্যাডিং করা কাঠের পাটাতন বা অন্তত কাঠের স্কেল রেখে হালকা করে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে দিন। না দেওয়া থাকলে ঘা পরিষ্কার করে অ্যান্টিটিটেনাস ইনজেকশন দেওয়া হয়। অ্যান্টিবায়োটিক শুরু হয়। বাইরে থেকে রড ঢুকিয়ে হাড় সেট করা হয়। এক্সটারনাল ফিক্সেশন। থাকে ৪ – ১২ সপ্তাহ। স্কিন গ্রাফটিং করতে হয়। ঘা শুকিয়ে গেলে এক্সটারনাল ফিক্সেটর খুলে হয় প্লাস্টার করা হয়, নয়তো অপারেশন করে ইনটারলকিং নেল বা প্লেট-স্ক্রু দিয়ে হাড় জোড়া হয়। অবস্থা জটিল হলে বহু দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। ওপেন ফ্র্যাকচারে নানা রকম জটিলতা হতে পারে। হাড়ে জীবাণু সংক্রমণ, হাড় না জোড়া। তখন আবার বিশেষ ধরনের ফিক্সেশন (ইলিজারব) করতে হতে পারে। ক্লোজড ফ্র্যাকচার প্যাডিং করা কাঠের তক্তা পেলে খুবই ভালো না হলে তিনটে বড় মাপের কাঠের স্কেল, ভাঙা অংশের দু’ পাশে দু’টো এবং নীচে একটা রেখে মোটামুটি টাইট একটা ব্যান্ডেজ করে দিন। থাই থেকে পায়ের তলার অংশ বরাবর, কাফ মাসল জুড়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত একটা প্লাস্টারের সাপোর্ট দিতে পারলে ভালো। এক্সরে করান। বাচ্চা হলে অজ্ঞান করে হাড় সেট করে হাঁটুর উপর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্লাস্টার করা হয়। থাকে ৮ – ১২ সপ্তাহ। পা কয়েকটি বালিশের উপর রেখে শুতে হয়। পায়ের আঙুল নাড়াতে হয়। সঙ্গে থাইয়ের মাংসপেশি শক্ত-ঢিলে করা। ঘণ্টায় দু’ মিনিট, যতক্ষণ জেগে থাকবেন। কিছু ক্ষেত্রে ৪ – ৬ সপ্তাহ পরে হাঁটুর প্লাস্টার কেটে হাঁটতে দেওয়া হয়। শুরু হয় হাঁটুর ব্যায়াম। হাঁটু ভাঁজ করা, সোজা করা। এবং গরম ঠান্ডা সেঁক। কিছু দিন পায়ে ভর না দিয়ে ক্র্যাচে হাঁটা। বয়স্কদের প্লাস্টার করলে হাড় জুড়তে ১২ – ১৬ সপ্তাহ লাগে। তত দিনে হাঁটু, গোড়ালি শক্ত হয়ে যেতে পারে। কাজেই অপারেশনই করা হয় আজকাল। প্লেট স্ক্রু দিয়ে হাড় জুড়ে প্লাস্টার করলে আবার ৪ – ৬ সপ্তাহ শুয়ে থাকা। বেস্ট ইন্টারলকিং নেল। এই অপারেশনের পর আর প্লাস্টার লাগে না। ৩ – ৪ দিন পর রোগী ক্র্যাচে হাঁটতে পারেন।