দরজায় চেপে গেছে, মচকে গেছে বা ধাক্কা লেগে ফুলে উঠেছে খুব। প্রচণ্ড ব্যথা। ৫ মিনেটের গ্যাপে ৫ – ১০ মিনিট করে বরফ সেঁক দিন। ঘণ্টা খানেক ধরে। অসহ্য ব্যথায় আইবুপ্রফেন বা ডাইক্লোইফিনেক খান। সঙ্গে অ্যান্টাসিড। চোট লাগা আঙুল আর তার পাশের আঙুলের মাঝে চৌকো পাতলা তুলোর প্যাড বসিয়ে আঙুল দু’টো হালকা করে ব্যান্ডেজ করে দিন। এক্সরে করুন। তিন রকম পরিস্থিতি হতে পারে — হাড় ভাঙেনি। হাড় ভেঙেছে কিন্তু ভাঙা অংশ জায়গা থেকে সরেনি। হাড় ভেঙেছে এবং ভাঙা অংশ স্থানচ্যুত হয়েছে। হাড় ভাঙেনি ব্যান্ডেজ খুলে দিন। ব্যথা না কমা পর্যন্ত আঙুল বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। প্রয়োজেন ব্যথার ওষুধ খেতে পারেন। ব্যথা কমে গেলে আস্তে আস্তে আঙুল নাড়ানো শুরু করুন। হাড় ভেঙেছে কিন্তু ভাঙা অংশ স্থানচ্যুত হয়নি আগের মতো দু’টো আঙুল জুড়ে ব্যান্ডেজ করতে হবে। এর ডাক্তারি নাম স্ট্র্যাপিং। তুলোর বদলে দু’ আঙুলের মাঝে পাতলা অ্যালুমিনিয়াম-এর পাত রেখেও স্প্লিন্ট করা যায়। তিন সপ্তাহে পরে ব্যান্ডেজ খুলে দিনে দু’ বার ১০ – ১৫ মিনিট গরম ঠান্ডা সেঁক দিন। গরম সেঁক দু-তিন মিনিট। তার পর ঠান্ডা, দু-তিন মিনিট। বিভিন্ন মাপের উলের গোলা বা ডিউজ বল হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরুন। যখনই সময় পাবেন। আঙুলের জোর এবং নমনীয়তা বাড়বে। হাড় ভেঙে সরে গেছে আঙুলের কর্মক্ষমতা ফিরে পেতে দু’ রকম আপারেশন করা যেতে পারে — বাইরে থেকে পিন ঢুকিয়ে ভাঙা হাড় তিন সপ্তাহ জায়গা মতো আটকে রাখা। একে বলে এক্সটারনাল ফিক্সেশন। অপারেশন করে হাড়গুলিকে পিন বা সোজা তার (কে ওয়্যার ) দিয়ে বেঁধে দেওয়া। মাঝে এক্সরে করে দেখে নেওয়া হয় হাড় জুড়ছে কি না। হাড় জুড়ে গেলে দু-তিন সপ্তাহ পরে পিন বা তার খুলে শুরু হয় গরম ঠান্ডা সেঁক ও ব্যায়াম।