বছরের বিভিন্ন সময় ঘুরে ফিরে আসে ভাইরাস জ্বর। ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ক্যালকাটা ফিভার নানান নামে। আবার ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, শ্বাসনালি বা ফুসফুসে সংক্রমণ, প্রস্রাবে সংক্রমণ — সব কিছুর সঙ্গেই জুড়ে থাকে কম বেশি জ্বর। ভাইরাস জ্বর সাধারণত দু-তিন দিনে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। অন্যান্য ক্ষেত্রে যে রোগের দরুন জ্বরের সৃষ্টি সামলাতে হয় তাকে। জ্বর, গা হাত পা মাথা ব্যথা, অল্প সর্দি, কাশি থাকলে দিনে ৩ – ৪ বার বা প্রয়োজন মতো প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খান। নাক দিয়ে জল পড়লে জাইলোমেটাজোলিন ড্রপ ব্যবহার করুন দিনে দু-তিন বার। তবে মনে রাখবেন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই ড্রপ টানা ৭ দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কাশির প্রকোপ কমাতে নুন গরম জলে গার্গেল করুন দিনে বেশ কয়েক বার। রোদে ঘোরাঘুরি করবেন না। কাজ থেকে ছুটি নিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন যথাসম্ভব। ঈষদুষ্ণ জলে গা স্পঞ্জ করুন। ঠান্ডা জলে মাথা ধুয়ে নিন। ঘাম দিয়ে জ্বর ছড়ার সময় সাবধান। ভেজা জামাকাপড় যেন বেশিক্ষণ পরা না থাকে। অল্প হাওয়ায় ঘাম শুকিয়ে নিন। গরম জলে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে গা মুছে নিতে পারেন। ঘামের সঙ্গে জল বেরিয়ে যায় বলে নুন-চিনি সরবত, ফলের রস খেলে আরাম পাবেন। জ্বর খুব বেড়ে গেলে, ১০২ ডিগ্রির উপর উঠলেই ঠান্ডা জলে ভালো করে মাথা ধুয়ে নিন। জ্বর ১০৩ – ১০৪ ডিগ্রির কাছাকাছি হলে আইস ব্যাগ দিন মাথায়। আরও বাড়লে শরীরে বরফ জলে ভেজা কাপড় জড়িয়ে জোরে বাতাস করুন। কাপড় গরম হয়ে গেলে আবার ভিজিয়ে নিন। বরফ জলে স্নানও করাতে হতে পারে। সঙ্গে জ্বর কমার ওষুধ। মনে রাখবেন খুব তাড়াতাড়ি জ্বর কমাতে না পারলে ব্রেন এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। বাচ্চার তড়কার ধাত থাকলে জ্বর ১০০-র উপর উঠলেই উপরের সাবধানতাগুলি অবলম্বন করতে হবে। জ্বর হলে অরুচি হয় বলে অনেকে খাওয়া কমিয়ে দেন। ফলে দুর্বলতা বাড়ে। তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে চাইলে ঘরে বানানো হালকা খাবার খান যথাসম্ভব। জল, দুধ, স্যুপ, ফলের রস, নুন-চিনির সরবত খান মাঝেমধ্যে। তেল মশলাদার খাবার, ফাস্টফুড, ঠান্ডা খাবার না খাওয়াই ভাল। একটু সাবধানতাতেই সাধারণ জ্বর ৩ – ৪ দিনে কমে যাওয়ার কথা। না কমলে ডাক্তার দেখান। কষ্ট বেশি হলে আগেও দেখাতে পারেন। বিশেষ করে অন্য কোনও কারণে অসুস্থ, বৃদ্ধ, শিশু বা গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে।