আগে ভারতীয় আইনে মৃগী থাকাকালীন বিয়ে হলে অন্য পক্ষের ডিভোর্সের আবেদন গ্রাহ্য করা হত। সেই আইনের পরিবর্তন হয়েছে। কারণ আজ সবাই জানেন যে মৃগী কোনও মারাত্মক অসুখ নয়। এবং চিকিত্সায় খুব ভালো ভাবে আয়ত্তে থাকে। কেন হয় মৃগী দু’ রকম। প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি। প্রাইমারি মৃগী কেন হয় তা এখনও জানা নেই। বংশে থাকলে হয় অনেক সময়। সেকেন্ডারি মৃগীর নানান কারণ। যেমন — মেনিনজাইটিস ব্রেন টিউমার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ মস্তিষ্কে টিউবারকুলেসিস সিসটিসারকোসিস মাথায় চোট জন্মগত ত্রুটি উপসর্গ অধিকাংশ সময় মূল উপসর্গ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। দাঁতে দাঁত লেগে জিভ কেটে যেতে পারে। প্রস্রাব হয়ে যেতে পারে। সঙ্গে থাকে হাতে পায়ে খিঁচুনি, মুখে গ্যাঁজলা ওঠা। ঘুমের মধ্যেও অনেক সময় উপসর্গ দেখা দয়। অজ্ঞান হওয়ার ঠিক আগে কিছু বিচিত্র অনুভূতি হয় কারও কারও। যেমন — হাত, পা, মুখ বা শরীরের কোনও অংশে কাঁপুনি শুরু হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। পেটের ভিতরটা হালকা হয়ে যায়। চোখের সামনে আলোর ঝলকানি দেখেন। কারও নাকে ভেসে আসে নানা রকম গন্ধ। এর পর আস্তে আস্তে কাঁপুনি শুরু হয়ে জ্ঞান হারিয়ে যায়। অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হন না। আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। যেমন — কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাত পা নাড়তে না-পারা, উদভ্রান্তের মতো আচরণ যেমন, ক্রমাগত ঠোঁট চাটা, চোখ পিটপিট করা, রাগারাগি এমনকী মারামারি পর্যন্ত। এ সব ক্ষেত্রে প্রথমে রোগ ধরা পড়ে না। ব্রেনের ক্ষতি হয়। ফলে স্বাভাবিক অবস্থাতেও আচরণে পরিবর্তন আসে। বুদ্ধি কমে যায়। সব জায়গায় হেয় হতে হতে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিতে পারে এদের মধ্যে।