প্রথমে দেখতে হবে স্পন্ডাইলোসিস আছে কি না। ঘাড়ের স্পন্ডাইলোসিসে প্রথম দিকে উপসর্গ ঘাড় ব্যথা। রোগ বেড়ে স্নায়ুতে চাপ দিলে ব্যথা নামে হাতে। হাত ঝিন ঝিন করার সঙ্গে হাতে দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে। ফল কোনও কিছু শক্ত মুঠোয় ধরতে অসুবিধে হতে পারে বা হাতের লেখা খারাপ হয়ে যেতে পারে। এক্সরে এবং এম আর আই স্ক্যান করে রোগ ধরা হয়। অবস্থা বুঝে ঘাড়ের পেশি সবল করার ব্যায়াম এবং শোওয়া-বসার কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। কলার পরতে হতে পারে। ট্র্যাকশন দিতে হয় কখনও। জটিল অবস্থায় অপারেশনও করতে হয়। লাম্বার স্পন্ডাইলোসিসে কোমর ব্যথা থাকে। ব্যবস্থা না নিলে রোগ বেড়ে স্লিপ ডিস্ক বা সায়েটিকা হতে পারে। এই অবস্থায় কিছু দূর হাঁটলে বা এক নাগাড়ে দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ে ব্যথা হয়। ঝিন ঝিন করে। এক্সরে এবং এম আর আই স্ক্যান করে রোগ নির্ণয় করা হয়। ট্র্যাকশন, বেল্ট, কিছু ব্যায়াম, চলাফেরার নিয়ম ইত্যাদির সাহায্যে অবস্থা সামলানো হয়। না সারলে অপারেশন লাগে। কারপাল টানেল সিনড্রোম বুড়ো আঙুল, তর্জনি, মধ্যমা এবং অনামিকার অর্ধেকটা ঝিন ঝিন করে, অবশ লাগে। হাত ঝুলিয়ে রাখলে শুরু হয় ব্যথা। ব্যথায় ঘুম ভেঙে যায়। খুন্তি পড়ে যায় হাত থেকে। কাপড় নিঙড়োতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়। প্রথম দিকে দিনে ৩ – ৪ ঘণ্টা কক আপ স্প্লিন্ট লাগিয়ে হাত একটু উঁচু করে রাখা হয়। কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাত শরীরের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণ করে থাকে। কবজি থেকে হাতের তালু একটু উঁচু করে রাখা হয়। ব্যাপারটা দেখতে হয় অনেকটা সাপের ফণার মতো। এর সঙ্গে দেওয়া হয় কিছু ওষুধ। দু-এক মাসের মধ্যে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে না এলে আপারেশন করতে হয়। পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথিতে রোগের এ রকম নির্দিষ্ট ধরন থাকে না। কেন হচ্ছে সব সময় বোঝা যায় না। সমস্যার সূত্রপাতেই ডাক্তার দেখিয়ে চিকিত্সা শুরু করলে, চিকিত্সা বলতে মূলত যে কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে তাকে আয়ত্তে রাখা, পুরোপুরি আরোগ্য সম্ভব। তথ্য : ডাঃ মৌলীমাধব ঘটক