<p style="text-align: justify; ">আপনার কি শ্বাস ছাড়তে কষ্ট হয়? আপনি কি সামান্য বৃষ্টিতে ভিজলে বা সামান্য বাতাসে হাঁটলে আপনার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়? আপনি কি বেগুন, পাকা কলা বা হাঁসের ডিম খেলে কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়? আপনার এলার্জি ও শ্বাসকষ্ট হলে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। কারণ বর্তমানে এর প্রতিকার ও অত্যাধুনিক চিকিত্সা পদ্ধতি রয়েছে।</p> <h3 style="text-align: justify; "><b>হাঁজলর চিকিত্সা<br /></b></h3> <p style="text-align: justify; ">হাঁজল একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সঠিক চিকিত্সা এবং ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁজল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেসব উত্তেজকের (ট্রিগার) কারণে হাঁজলর তীব্রতা বেড়ে যায়, রোগীকে সেগুলো শনাক্ত এবং পরিহার করতে হবে।</p> <p style="text-align: justify; ">এছাড়া সব হাঁজল রোগীকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখতে হবে :-<br /> — ধূমপান এবং তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে।<br /> — ঠাণ্ডা বাতাস হাঁজলর তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এ সময় ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে।<br /> — ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম নিরুত্সাহিত করা উচিত নয়। ব্যায়াম শরীর ভালো রাখে এবং উচ্চরক্তচাপ ও অন্যান্য জটিল রোগ-বালাই থেকে শরীরকে রক্ষা করে। সঠিক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যায়ামের সময় বা পরে হাঁজলতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা পরিহার করা সম্ভব।<br /> — বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং বাড়িতে অবাধ বিশুদ্ধ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে।</p> <p style="text-align: justify; "><b>ওষুধ :-</b> দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যেমন :<br /> ১। হাঁজল প্রতিরোধক<br /> ২। হাঁজল উপশমকারক</p> <p style="text-align: justify; "><b>হাঁজল প্রতিরোধক :-</b> যেসব ওষুধের ব্যবহার হাঁজল রোগে আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করে, সেগুলোকে হাঁজল প্রতিরোধক বলা হয়। সাধারণত দুই ধরনের ওষুধ হাঁজল প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে :<br /> এন্টি ইনফ্লামেটরি ওষুধ : এসব ওষুধ শ্বাসনালির প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হাঁজল প্রতিরোধ করে। এই শ্রেণীর বহুল ব্যবহৃত বুসোনাইড, ক্লোমিথাসেন, ফ্লুটিকাসোন ইত্যাদি।</p> <p style="text-align: justify; "><b>ব্রঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালি প্রসারক :-</b> এসব ওষুধ দ্রুত শ্বাসনালিকে প্রসারিত করে হাঁজলর তীব্রতা প্রতিরোধ করে।</p> <p style="text-align: justify; "><b>হাঁজল উপশমকারক :-</b> ব্রঙ্কোডাইলেটরগুলো উপশমকারক হিসেবে কাজ করে। ব্রঙ্কোডাইলেটরগুলো শ্বাসনালিকে দ্রুত প্রসারিত করে। ফলে ফুসফুসে সহজে বায়ু চলাচল করতে পারে এবং এর মাধ্যমে হাঁজলতে আক্রান্ত রোগীর উপসর্গগুলো দ্রুত উপশম হয়।</p> <p style="text-align: justify; ">দুই ধরনের ব্রঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালি প্রসারক আছে, যেমন :</p> <p style="text-align: justify; ">ক্ষণস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর : যেমন : সালবিউটামল। এসব ওষুধ দিনে তিন-চারবার ব্যবহার করতে হয়।<br /> দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর : যেমন—ব্যামবিউটামল। এসব ওষুধ দিনে একবার ব্যবহার করতে হয়।</p> <p style="text-align: justify; ">মৃদু বা মাঝারি হাঁজলতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষণস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন : সালবিউটামল) ব্যবহার করলে কোনো ধরনের ক্লিনিক্যাল সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন: ব্যামবিউটামল) ব্যবহার করতে হবে।</p> <p style="text-align: justify; ">রাত্রিকালীন হাঁজলতে মোডিফাইড রিলিজড থিওফাইলিনের বিকল্প হিসেবে ব্যামবিউটামল ব্যবহার করে ভালো সুফল পাওয়া যায়।</p> <h3><b>চিকিত্সার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া<br /></b></h3> <p style="text-align: justify; ">১। করটিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার ওরাল ক্যানডিয়াসিস সৃষ্টি করতে পারে। যেসব রোগী ইনহেলারের মাধ্যমে করটিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করে তাদের অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট (যেমন: অসটোক্যাল/অসটোক্যাল জেধার) গ্রহণ করা উচিত।</p> <p style="text-align: justify; ">২। থিওফাইলিন এবং এ-জাতীয় ওষুধগুলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং রোগীকে অবসন্ন করে দেয় বলে থিয়োফাইলিনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন : ব্যামবিউটামল (ডাইলেটর) ব্যবহার করা উচিত।</p> <p style="text-align: justify; ">৩। তবে হোমিওপ্যাথিতে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা বা হাঁজলর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল চিকিত্সা রয়েছে । অভিজ্ঞ কোন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগযোগ করে যথাযথ ট্রিটমেন্ট নিন। অতি দ্রুত ফল পেয়ে যাবেন।</p> <p style="text-align: justify; ">সুত্রঃ বিকাশপিডিয়া বাংলা</p>