সুরাপানের সমস্যাকে প্রধানত দুই প্রকারে ভাগ করা যায়। যথা ১) হঠাৎ উদ্ভূত ও স্বল্পকালীন তীব্র সমস্যা; ২) দীর্ঘকালীন ক্রনিক ধরনের সমস্যা। এর মধ্যে তীব্র সমস্যার গভীরতার বিষয়টি নির্ভর করে পানীয়র পরিমাণ, রক্তর প্লাজমাতে অ্যালকোহলের পরিমাণের বৃদ্ধির হার, আনুষঙ্গিক অন্য ওষুধ বা নেশার দ্রব্যের উপস্থিতি এবং এ সম্পর্কে দেহের পূর্ব অভিজ্ঞতা ইত্যাদি। রক্তে অ্যালকোহলের পরিমাণ সুরাপানজনিত সমস্যার মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে — রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা সাধারণ লক্ষণ-উপসর্গ (প্রতি ডেসিলিটারের যত গ্রাম ) ০.০২ ক্রমশ নিস্তেজিত অবস্থা, নেশাগ্রস্ত হওয়ার অনুভূতি ০.০৪ জটিল ধরনের জ্ঞানাত্মক প্রক্রিয়া গঠনে ও স্বৈচ্ছিক পেশিসঞ্চালনে অক্ষমতা ০.২০ কথা জড়িয়ে আসা, পেশিসঞ্চালনে অসংলগ্নতা, বিরক্তি প্রকাশ, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষমতা ০.৩০ ক্রমশ জ্ঞান হারানো, শ্বাসক্রিয়া গভীর ও অনিয়মিত হওয়া ০.৪০ মৃত্যু প্রসঙ্গত বলা উচিত, মৃত্যুর কারণ হিসাবে অন্য যে কোনও পানীয়র তুলনায় অ্যালকোহল অনেক বেশি পরিমাণে দায়ী। অ্যালকোহলের পরিমাণ সামান্য বেশি হলেই দেহের সমস্ত অঙ্গতন্ত্রর ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। দেখা যাবে যে এই বিরূপ প্রভাব বয়স এবং নারী-পুরুষের দেহের আয়তনের ওপর নির্ভর করে। তবে এ-ও দেখা যায় যে, অ্যালকোহলের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সকলের ক্ষেত্রে সমান নয়। আরও কয়েকটি জটিল শারীরিক মানসিক ও সামাজিক সমস্যা মদ্যপানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে। যেমন, ১) অ্যালকোহল জনিত সহনশীলতা (tolerance)। এর ফলে সুরাপায়ী অল্পমাত্রার সুরাপানে স্বস্তি বোধ করে না, তাকে ক্রমশ সুরার পরিমাণ বাড়িয়ে যেতে হয়। ২) সুরাপানজনিত নির্ভরশীলতা (dependence)। এর ফলে সুরাপায়ী নিয়মিত সুরাপান না করলে তার দেহ মনে পীড়ন (stress) হয়, ফলে তাকে সুরা পাওয়ার জন্য ছুটে বেড়াতে হয়। ৩) সুরাপান সংক্রান্ত অসংখ্য নীতিগত সামাজিক সমস্যা দেখা যায়। যেমন নিয়মিত সুরাপায়ীদের বার বার নানা ধরনের সামাজিক, ব্যক্তিগত আন্তঃসম্পর্কগত, আইনগত, পেশাগত সমস্যায় ভুগতে হয়। যেমন মদ্যপ আবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে এরা বার বার আইন লঙ্ঘন করে ও সাজা পায়। এ ছাড়া এদের পারিবারিক বিশৃঙ্খলা যথেষ্ট পরিমাণে ঘটে থাকে, হিংসাত্মক আচরণের জন্য পরিবারের সদস্যরা আইনের সাহায্য নিতে বাধ্য হয় এবং এ সবের ফলে সার্বিক ভাবে শিশুরা যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।