সুরা বা অ্যালকোহলের রাসায়নিক নাম ইথানল। ইথানল প্রস্তুত করা হয় শর্করার সন্ধান-প্রক্রিয়ার (fermentation) মাধ্যমে। যে সব পানীয়র মধ্যে ইথানল মিশ্রিত থাকে সেগুলির শ্রেণি বিভাগ করা হয় প্রধানত এদের মধ্যে উপস্থিত ইথানলের শতকরা পরিমাণ দ্বারা। যেমন — ১) মল্টজাতীয় পানীয় — বিয়ারে, অ্যালকোহলের পরিমাণ ৩ – ৬ শতাংশ ২) সাধারণ মদ — ৯.১৬ শতাংশ ৩) স্পিরিট — রাম, ভদকা, হুইস্কিতে রয়েছে ৪০-৫৫ শতাংশ, ভারতের যে কোনও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্র্যান্ডে এর সর্বোচ্চ মান ৪২.৮ শতাংশ (আয়তন/আয়তন) এই সমস্ত পানীয়র মধ্যে ইথানলের সঙ্গে আরও অন্য সহযোগী কিছু উপাদান (congeners) থাকে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মিথানল, বিউটানল, অ্যালডিহাইড, এস্টার, ফেনল, ট্যানিন এবং লোহা, সিসে ও কোবাল্টের মতো ধাতু। এই সহযোগী দ্রব্যগুলি যেমন পানীয়র স্বাদ তৈরি করে তেমনি সুরাপায়ীর স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি করে। যুগ যুগ ধরে সুরাকে জীবাণুনাশক হিসাবে প্রয়োগ করা হয়। এ ছাড়া ভেষজ শাস্ত্রে/ওষুধশাস্ত্রে সুরা নানা দিক থেকে সংশ্লিষ্ট। অল্প ও পরিমিত মাত্রায় সেবন করলে অনেক সময় হৃৎপিণ্ডের রক্তসঞ্চালনের সমস্যা, স্ট্রোক, পিত্তথলির পাথর, অ্যালঝাইমার ধরনের অকাল জরা ইত্যাদি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সুরা দেহে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চার করে থাকে, যা আমরা খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে পাই। যেমন গড় এক পাত্র সুরাপান (one drink) করলে ৭০ থেকে ১০০ ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সুরায় খনিজ লবণ, ভিটামিন ও প্রোটিন থাকে না। এ ছাড়া সুরা অন্ত্র থেকে ভিটামিন শোষণ-প্রক্রিয়ায় গুরুতর বাধার সৃষ্টি করে। এই কারণে নিয়মিত সুরাপায়ীরা অনেকে অপুষ্টিতে ভোগে। কারণ নিয়িমত সুরাপানের জন্য ক্ষুধামান্দ্য হয় এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের আন্ত্রিক শোষণে সুরা বিঘ্ন ঘটায়।