শিশুরা বাড়ি ছাড়া বেশির ভাগ সময় স্কুলে কাটায়। তাই স্কুল তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। স্কুল তাদের স্বাস্থ্য এবং সুস্থ আচারণের শিক্ষা দিতে পারে। সে কারণে স্কুলের পরিবেশ শিশু স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযুক্ত হওয়া প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের কাজ স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করতে শিশুকে উৎসাহ দেওয়া। বিশেষ কয়েকটি অসুখ যেমন, হাঁপানি, স্থূলত্ব এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ধারণা দেওয়া। শিশুর সাধারণ কয়েকটি অসুখ এবং স্কুল প্রতিষেধক নেওয়া থাকলেও সাধারণ কিছু ছোঁয়াচে রোগ শিশুদের হয়। এই অসুখগুলির মধ্যে রয়েছে : ঠাণ্ডা লাগা এবং ফ্লু গলা ব্যাথা পেটে ব্যাথা ডায়েরিয়া/বমি চোখের সমস্যা কান এবং দাঁতে ব্যথা কাঁটা ছেঁড়া বা আঘাত লাগা শিশু বয়সে স্থূলত্ব এবং অন্যান্য কখন শিশুদের ঘরে রাখতে হবে ডায়েরিয়া বা মলের সঙ্গে রক্ত বা মিউকাস এলে কোনও অসুস্থতার কারণে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই বা তার বেশি বমি হলে মুখে ঘায়ের কারণে অনবরত লালা বেরোলে চামড়ায় সংক্রমণ থেকে ঘা হলে পাঁচড়া হলে অন্য কোনও সংক্রমণজনিত কারণে অসুস্থতার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য উন্নয়ন/স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণের উপাদান পুষ্টি ভালো খিদে স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সুষম আহার সম্পর্কে শিক্ষা স্কুলে খাদ্য পরিকল্পনার প্রতিপালক হিসাবে সরকার/শিল্পের ভূমিকা দাঁত ওঠার আগে ও প্রাক বয়ঃসন্ধিতে লোহা, ফ্লোরাইড এবং ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন স্থূলত্ব হতে পারে (জাঙ্ক ফুড থেকে) কায়িক পরিশ্রম ডিপার্টমেন্ট অফ হেল্থ এবং হিউম্যান সার্ভিসেস-এর গাইড লাইন অনুযায়ী ছ’বছর বা তার বেশি বয়সিদের প্রতি দিন অন্তত এক ঘণ্টা কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজন। স্কুলের খেলায় অংশগ্রহণ, ব্যায়াম, বিশেষত পেশী এবং হাড়কে শক্তিশালী করার ব্যায়াম সপ্তাহে অন্তত তিন দিন করার প্রয়োজন। সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল এবং প্রিভেনশনের (সিডিসি) গবেষণা অনুযায়ী দেখা গেছে : ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সি শিশুদের ৬১.৫ শতাংশ স্কুলের বাইরে কোনও সংগঠিত শারীরিক কাজকর্মে অংশগ্রহণ করে না। এই বয়সি ২২ শতাংশ শিশু জানিয়েছে যে তারা স্কুলের বাইরে কোনও শারীরিক কাজকর্মে যুক্ত হয় না। স্কুলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত হবে : দাঁতের পরীক্ষা স্কোলিওসিস মূল্যায়ন রক্তচাপের পরিমাপ উচ্চতা এবং ওজনের পরিমাপ কান এবং চোখের পরীক্ষা টিবি এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে টিকাকরণ টিকাকরণ সুস্থ জীবনের ভিত টিকা নেওয়া নিরাপদ এবং এটি আপনার ও আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখে টিকা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধু আপনাকে নয়, আপনার আশপাশের মানুষগুলোকেও সুস্থ রাখে টিকাকরণ বিভিন্ন ছোঁয়াচে অসুখগুলোর থেকে শিশুকে সুস্থ রাখে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি প্রসারে ব্যবস্থা স্বাস্থ্যবিধির কৌশল যখন শিশুদের সর্দি-কাশি হয়, তখন তা যাতে অন্যদের মধ্যে না ছড়ায় সে দিকে নজর দিতে হবে। মুখে টিস্যু চাপা দিয়ে তাকে হাঁচতে বা কাশতে শেখাতে হবে; টিস্যু না পাওয়া গেলে জামার হাতা চাপা দিয়ে হাঁচতে বা কাশতে হবে। হাঁচি বা কাশির সময় মুখে হাত দিতে মানা করতে হবে। কারণ মুখে হাত দিয়ে হাঁচলে বা কাশলে হাতের মাধ্যমে সেই জীবাণু ছড়িয়ে পড়বে। দেখা গেছে, বাতাসের চেয়ে হাতের মাধ্যমে সব চেয়ে বেশি জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। শিশুকে শেখাতে হবে সে যেন তার কাপ, খাওয়ার বাসনপত্র, তোয়ালে বা গামছা, টুথব্রাশ অন্যদের ব্যবহার করতে না দেয়। সুস্থ থাকার অন্যতম হাতিয়ার হল নিয়মিত হাত ধোয়া। স্কুল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য পরামর্শ হাত ধোয়ার জন্য সাবান ব্যবহার করা হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা চোখ বা মুখে হাত না দেওয়া জলের বোতল, খাবার বা অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিস অন্যদের ব্যবহার করতে না দেওয়া কারও ছোঁয়াচে রোগ হলে তাকে আপনার শিশুকে এড়িয়ে চলতে বলুন। তার ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে আপনার শিশুও অসুস্থ হতে পারে স্বাস্থ্যকর ডায়েট, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম এবং ছুটির দিনগুলিতে সক্রিয় থাকা আপনার শিশুর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। বছরে এক বার ফ্লু ভ্যাকসিন দিন। ঘরে রোগ সংক্রমণ রুখতে পরিবারের সকলে একই নিয়ম মেনে চলুন। সুত্রঃ অধ্যাপক (ডাঃ) সুকুমার মুখার্জি এমডি, এফআরসিপি (লন্ডন), এফআরসিপি (এডিনবরা) এফআইসিপি, এফআইএএমএস, এফএসএমএফ প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, মেডিক্যাল কলেজ কলকাতা সহযোগী পম্পিতা চক্রবর্তী পিএইচডি রিসার্চ ফেলো