ভারতে প্রতি বছর গড়ে ৩ কোটি মহিলা গর্ভবতী হন এবং ২ কোটি ৬০ লক্ষ মহিলা প্রসব করেন (এমওএইচএফডব্লু, ২০০৬)। শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৭৭ হাজার মায়ের মৃত্যু হয়। এই অঞ্চলে গর্ভাবস্থায় মৃত্যুর একটা বড় অংশ ভারতের। গর্ভাবস্থায় মৃত্যুর সংখ্যাতত্ত্বে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি জড়িত --- ১। গর্ভাবস্থায় মৃত্যুর অনুপাত (এমএমআর) -- বছরে প্রতি এক লক্ষ শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে কত জন মা গর্ভাবস্থায় জটিলতার কারণে বা প্রসবের সময় মারা যান। ২। গর্ভাবস্থায় মৃত্যুর হার -- ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সের মধ্যে প্রতি এক লক্ষে কত জন মা সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যান। ৩। প্রজননকালীন ঝুঁকি (লাইফ টাইম রিস্ক) — পুরো প্রজননকালীন সময় জুড়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা সম ভাবে বণ্টিত, এটা ধরে নিয়ে প্রজননকালীন বয়সে (১৫-৪৯) গর্ভাবস্থায় মৃত্যুর সম্ভাব্যতাকে বলা হয় প্রজননকালীন ঝুঁকি। গর্ভাবস্থায় মৃত্যুর অনুপাত দেশের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যের ছবিকে তুলে ধরে। ভারতে এই মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি এক লাখে একশ আটাত্তর জন (তথ্য সূত্র: প্রসবকালীন মৃত্যু নিয়ে বিশেষ বুলেটিন (২০১০-১২), ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল)। গর্ভাবস্থা ও শিশুজন্ম সংক্রান্ত রুগ্নতা ও মৃত্যু কমিয়ে গর্ভবতীদের এবং সদ্যোজাতদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে হলে মায়েদের যত্নের একটা ধারাবাহিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য চাই গর্ভাবস্থা, শিশুজন্মকালীন এবং শিশুর জন্মের পর মায়ের পরিচর্যায় যথেষ্ট দক্ষতা।